আমার স্বপ্ন আমাদের ভবিষ্যৎ - কিশোর চন্দ্র বালা

আমার স্বপ্ন আমাদের ভবিষ্যৎ – কিশোর চন্দ্র বালা

পার্ট-১

আমার স্বপ্ন আমাদের ভবিষ্যৎ | কেমন আছেন? আশাকরি বলবেন ভাল আছি, এটা বাঙালি হিসেবে সৌজন্যবত আমাদের বলতে হয়। কথায় বলে না আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারি ঠিক তেমনি উপর থেকে ভাল আছি বললেও ভেতরের কষ্টটা জানতে হলে বিচার বিশ্লেষণে যেতে হবে, তাই আপনার কষ্টের কথা স্মরণ করিয়ে কষ্ট না দিতে ভলো আছেন এই মিথ্যেকেই আপাতত মেনে নিচ্ছি। আপনার বাবা, মা,ভাই, বোন, স্বজনরা সবাই সুখ আছো তো? ভলো থাকাটাতে সবারই প্রত্যশা আর যখন এই প্রত্যশা করে যাচাই করতে হয় ।

কেন আমরা কাঙ্কিত ভাল নেই? কেন আমার ইচ্ছা থাকতে ও ইচ্ছেমত চলার সুযোগ নেই? কেন আমার শক্তি থাকলেও শ্রমের মূল্য পাচ্ছি না? কেন কেউ পাঁচ তলায় আর কেউ গাছ তলায় থাকছে? আপনি সপ্তাহে একদিন মাংস খান আর কেউ একবেলা চিকেন ছাড়া চলে না? কেন এমন বলতে পারেন? আপনি হয়ত বলবেন, “আমরা গরীব ও ধনী তাই!” কিন্তু আমি বলব, “না”। এই ধনী গরীব পার্টটাই এর জন্য যদি দায়ী হয় তবে কেন এই অধ্যায়ের শেষ হচ্ছে না কারন এর জন্য দাই রাজনীতি।

ভালো কথা আপনি কি রাজনীতি করেন? যদি করে থাকলে তাহলে তো বলার কিছু নেই আর যদি রাজনীতিকে অপছন্দ করেন তাহলে আসুন হাত মিলাই বন্ধু হয়ে যাই আর গল্প করি, ভাবছেন কিভাবে গল্প করবেন আপাতত আমার গল্পটি পড়–ন তারপর না হয় আপনারটা শোনাবেন।

প্রকৃতির অপার লীলাভূমি এই পৃথিবী এখানে মাটি, জল, হাওয়া, গাছ, পাখি, পশু কোন কিছরিই খামতি নেই আর মানুষ এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠজীব। বহুকাল আগে যখন পৃথিবীতে মানুষ জঙ্গলে বাস করত বলা যায় যখন বস্ত্রহীন মানুষেরা শিকার করে খেত তখন তারা ঐক্যবদ্ধ ছিলো পশু শিকার করত ফল সংগ্রহ করত একস্থান থেকে অন্যত্র গমন করত কল্পনায় ভাবলে মনে হয় এডভেঞ্জার। এইভাবে রহস্যময় মানুষ কখন কখন দল থেকে বিছিন্নও হতো আর বিছিন্ন মানুষটি যদি অধিক কিছু ফল বা মাংস সংগ্রহ করত তবে তা তার নিজের কাছে সংরক্ষণ করত আর দলের সাথে সংগৃহীত সামগ্রী সকলের মাঝে বন্টন করে খেত। আমি সেদিন ঘুমিয়ে একটি স্বপ্ন দেখেছি আপনাকে সেই দুঃস্বপ্নের গল্পটাই বলছি…….

পৃথিবীর কোন একটা বিস্তৃত খালি অঞ্চল যেখানে কোন জানমানব নেই তবে প্রচুর গাছ ও পশুপাখি আছে। একদল শিকারী বন্যমানব ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ের উপর দিয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ একজন উপর থেকে গড়িয়ে নিচে সেই বনভূমিতে পরে যায়। দলের লোকেজন চাইলেও তাকে উঠাতে পারব না জেনেই তারা ফিরে যায় নিজেহদের গুহায়।

নিচে পরা মানুষটি আবিস্কার করল জনমানবহীন এই অঞ্চলে সে একা তবে তার খদ্যের অভাব নেই সে আনন্দে এখানে থাকতে শুরু করল। কিছুদিন পরে হঠাৎ সে দেখল নদীতে একটা মানুষ ভেসে এসেছে সে মানুষটিকে তুলে এনে বাচাঁলো নতুন মানুষটি তার থেকে অনেক কমবয়সী এবং অনেকটা পরিশ্রমী তাই সে তাকে দিয়েই এখন সব কাজ করায় খাবার সংগ্রহ, পশু শিকার, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এসব বলা যায় নতুন মানুষটি এখন তার দাস।

তার দুজনে মিলে যতদূর সম্ভব এলাকা ঘুটিঁ গেরে সীমানা দিয়ে দিয়েছে যদি নতুন কেউ আসে তারা যেন তাদের বনথেকে খাদ্য নিতে না পারে। তাদের ভয় সত্য হলো নতুন আরো কয়েকজন এসে বনে আশ্রয় নিয়েছে তবে তারা অনেকদিন খাবার না পাওয়ার রোগা দূর্বল ছিলো তাই ওরা দুজন তাদের খাবার দিল এবং এখানে থাকার অনুমতি দিলে তা খেয়ে তাদের বাচঁতে হবে। নতুন মানুষগুলো তা মেনে নিলো কারন তাদের কাছে শরীরের শ্রম দেয়া ছাড়া আর কিছু নেই।

এভাবে করে আস্তে আস্তে এখানে লোকজন বাড়তে তাকে প্রচুর শিকার ও খাদ্য জমা হয় সবাইকে অল্প অল্প করে ভাগ করে দিয়ে প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করা যাচ্ছে। সকলের অজান্তেই উড়ে এসে জুরে বসা সেই প্রথম মানুষটি এখন অলস হয়ে সারাদিন বসে থাকে তার অন্যের শিকার করা খাদ্য গ্রহণ করে আবার অন্যদের কম দিয়ে সেই অতিরিক্ত খাদ্যও একাই গ্রহণ করে অথচ সবাই তাকেই মেনে চলছে তাকেই তারা রাজা মানতে শুরু করেছে।

সময়ের তালে সভ্যতার উত্তোরনে সেই বন থেকে সেখানে গড়ে উঠেছে নগর আর ওই প্রথম ব্যক্তি এখন সেই নগরের স্বঘোষিত রাজা তার কাজ সবাই হাড়ভাঙা শ্রম দিয়ে শষ্য ফলাবে, গৃহ নির্মান করবে, খাদ্য উৎপাদন করবে আর সে সকলের কষ্টার্জিত উপার্জন নিজের কাছে রেখে নামমাত্র সুবিধা তাদের কে দেবে ঘুম ভেঙে গেলো তাই গল্পের পরিনতি বলতে পারছি না তবে আমার মনে হয়েছে এই গল্পের ও একটা পরিনতি হওয়া উচিত। যেখানে এই নগরীর সকল শ্রমদাতা তার নিজের শ্রমের যাথাযথ মূল্য সে নিজেই পাবে তার কষ্টার্জিত অর্থ শোষনের জন্য কোন প্রভু থাকবে না।

মানুষগুলো নিজেদের মধ্যে ভাতী নিয়ে না াানন্দ নিয়ে বাচঁতে আর মজার বিষয় ওই প্রথম মানুষটি কেবল বুদ্ধি দিয়ে সকলকে দমিয়ে রেখে ছিল তাই তার হাত থেকে মুক্তি পেতে জনগনেরও বুদ্ধিমান হওয়া জরুরী কিন্তু তারা কি বোকা? না তাদের ও প্রখর রয়েছে কিন্তু তারা অত্যন্ত বিনয়ী ও অনুগত তাই রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে অনৈতিক কাজ বলে অন্ধবিশ্বাস করে যেই র্দুযোগের সুবিধা নিচ্ছে ওই দুষ্টু। তাই মানবমুক্তির জন্য প্রয়োজন ঐক্য এবং কুসংস্কার থেকে বেড়িয়ে আসার শিক্ষা তবেই এই সমাজে শান্তি ফিরবে সমাজ হবে গতিশীল।

তারপর বলুন আপনি কেমন সমাজ প্রত্যাশা করেন? যদি সাম্যের সমাজ আশা করেন যেখানে কেউ ধনি তাকবে না আর কেউ গরীব ও না সবার একটা ঘর থাকবে, সবার নিবেলা খাদ্য থাকবে, সবার জন্য কাজ থাকবে, সবার জন্য একই রকম শিক্ষা থাকবে যা কুসংস্কার মুক্ত ও প্রত্যক্ষ জীবনে ব্যবহার উপযোগী বিজ্ঞান সম্মত শিক্ষা, সবার জন্য একই রকম চিকিৎসা সুবিধা, চলার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা সত্যকে বলার শক্তি থাকবে।

সমতা ও সাম্যের সংস্কৃতি নিয়ে মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্তএই পৃথিবীর আলো; হওয়া উপভোগ করবে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য্য আরো বিকশিত করতে তার যা করনীয় তা করবে তবে পৃথিবীর ধ্বংসের কারন হয় এমন সব কিছু থেকে বিরত থাকবে। দূর্যেঅগে একে অপরের পাশে থাকবে এমন সমাজইতো আপনি প্রত্যাশ্যা করেন না কি? তবে আপনি কি এমন সমাজেই নেই? আমি বলব নেই শুনবেন এখন আমরা কোন সমাজে আছি…. আমরা যে সমাজে আছি তাকে বলে রাষ্ট্র-  যেখানে সমাজের সকল কিছুর মালিক কয়েকজন মাত্র।

যাদের হাতে সব সম্পদ যদিও তারা ওই প্রথশ ব্যক্তিরমতই আমাদের নমনীয়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুচতুর ভাবে আমাদের অধিকারকে দখল দিয়ে বসেছে। আমরা তাদের জন্য আমাদের সকল শ্রম দিয়ে দেই বিনিময়ে তারা মাসশেষে যে বেতন দেয় তা দিয়েই আমাদের নিজ দায়িত্বে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, বস্ত্র সব ব্যবস্থা করতে হয়। আবার আমার সেই সামন্য আয় থেকেই আমার সমাজপতি (রাষ্ট্রকে) কর দিতে হয় শতকরা প্রায় ১৫% বা এর চেয়ে বেশি দিতে হয় পানির দাম, বিদ্যুতের দাম, গ্যাসের দাম সবকিছু আমাকে বিনিময়ে নিতে হয় তথাপিও আমাদের বলতে হয় আমাদের নেতা মহান কারন তার বত্তৃতা শুনলে আমাদের মনে হয় তিনি আমাকে নিয়ে কতটা ভাবেন আমার উন্নয়নে তার চিন্তায় খামতি নেই কিন্তু আমি জানি তিনি যেউচ্চমূলের পোশাক পরে আছেন, যে ভি.আই.পি গাড়িতে চড়েন যে বাড়িতে থাকেন যা দান করেন সবি আমার রক্তজল করে আধপেটে খেয়ে জমিয়ে রাখা ট্যাক্স/করের অর্থে করেন।

আর যখনি আমি তাকে বলি, “জনাব আমার শ্রমে আপনার বিলাসিতা মানি না।” তখন তার খুব মাইন্ট হয় তিনি আইনসভায় ম্ইন্ট আইন পাশ করে আমাকে বন্দি করে তার প্রহার শক্তি দেখিয়ে অন্যদের বুঝিয়ে দেন তিনি সত্য, তিনিই মহান তার চরনে লেহ্যন করাই আমাদের পবিত্র দায়িত্ব তবুও বিদ্রোহ হয় আমার চেতনার মসাল নিভু নিভু করেও জ্বলে থাকে তবুও স্বপ্নকে রাত্রিরবুকে জ্বাগিয়ে রাখে দিনোর অলোয় দেখার প্রত্যশ্যায়। আপনি কি এমন সমাজেই বাচতে চান? নাকি আমারমত সাম্যের সমাজের স্বপ্ন দেখাতে চান সিধান্ত আপনার। যদি আমার স্বপ্নই আপনার স্বপ্ন হয়ে ওঠে তবে আমাদের স্বপ্ন বাস্তব হবেই।

পার্ট-২

আমার পরিবার এই সমাজের নিম্নমধ্যবিত্তের কাতারে ধরা যায় কারণ আমার পিতার আয়ের পরিমাণ নিম্নমধ্যবিত্তের সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু মজার বিষয় হলো আমার পিতার আয়ের উৎসটা কি? কেমন করে তিনি উপার্জন করেন?তার শ্রমের উৎস কি? মূল্য কতটুকু এবং নিরাপত্তা আছে কি? এই সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন কারণ আমার পিতার ন্যায় হাজারো পিতা এমনি শ্রমের বিনিময়ে সম্পদ অর্জন করতে চায় তাই তাদের সম্পর্কে না জানলে আমাদের উপার্জনের মাধ্যমের সাথে পরিচিত হওয়া হবে না।

আমার পিতা একজন দর্জি মানুষের লজ্জা নিবারণ করে তাদের আভিজাত্যের পোষাকে মুড়ে দেয়াই তার দায়িত্ব বিনিময়ে তিনি যে অর্থ উপার্জন করেন তা দিয়ে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু তিনি যতক্ষণ শ্রম দিচ্ছেন ততক্ষণ তার উপার্জন নচেৎ আমদের উনুন জ্বলবে না। উপরন্তু আমাদের এই সীমিত আয়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ অঙ্ক দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষে বিনিময়ে কিন্তু আমরা খাদ্যের নিরাপত্তা পাইনি ! পাইনি বাসস্থানের ব্যবস্থা ,চিকিৎসা,বিদ্যুৎ,গ্যাস পানিও আমাদের উপার্জনেই ক্রয় করতে হচ্ছে। তবে আমার উপার্জনের যে অংশ ট্যাক্স নামে রাষ্ট্রকে দিলাম তার কি হলো? ওহ আমি তো ভুলেই গেছিলাম এই রাষ্ট্রব্যবস্থার যারা নীতি নির্ধারক তারা তো জনগণের সেবক সারাদিন-রাত জনগণকে নিয়ে ভাবে এই সেবা কর্মের জন্যতো তারা কৃষি-শষ্য উৎপাদনে শ্রম দেবার সময় পায় না, সময় পায় না পোশাক তৈরিতে শ্রম দেয়ার মোটকথা উৎপাদনের কোন ক্ষেত্রেই এদের প্রতক্ষ্য শ্রম দেয়ার সময় নেই কারন এরা জনগণের সেবক।

তাহলে এরা কি করে বাঁচে? কেন? জনগণের সেবা করে বলেই তো জনগণ এদর সেবার জন্য ট্যাক্স দেয় আর এরা ট্যাক্সের টাকায় বাড়ি বানায়,গাড়ি কেনে, দাস-দাসী ,বডি গার্ড ,পিএস আরো কত কি নিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিজেদের সেবায় নিয়োজিত করে । তিনবেলা চিকেন-মাটন খেয়ে শক্তি জুগিয়ে বক্তৃতা করে কি সুন্দর তাদের চেহারা যেন দেবতুল্য। তাহলে রাষ্ট্রের জনগণ রাষ্ট্রের সেবকদের সেবার জন্যই কর দেয়! তবে ্টাও সত্য মাঝ মধ্যে এসব জনদরদীরা জনগণের কথাও ভাবে তখন জনগণের টাকায় সর্বোচ্চ সুখ ভোগ নিশ্চিত করে অতিরিক্ত অর্থে জনগণকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের জন্য পঁচা ইট,পাথর,রডের বদলে বাঁশ দিয়ে রাস্তাঘাট,ব্রীজ-সেতু,বড়বড় দাপ্তরিক কার্যালয় নির্মান করে তবে এখানেও ভেজাল আছে ,এসব কাজ হয় টেন্ডারে আর তিনিই এই নির্মানের দায়িত্ব পেয়ে থাকেন যিনি জনদরদীদের দরদ করতে জানেন। তাহলে এরাষ্ট্রে যা উন্নয়ন যা সুযোগ সুবিধা সব কিছুই আমার-আপনার-আমাদের শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থেই হচ্ছে। তাহলে এই স্বঘোষিত জনদরদীদের কাজ কি? এরাতো দরদের দরিয়া বানিয়ে আমাদের সর্বস্ব ভাসিয়ে নিচ্ছে।

আবু ইসহাকের “জোঁক” গল্পটি পড়বেন তাহলেই এই দরদীদের দরদের কারন আর চরিত্র বুঝতে পারবে এদেশের কামার , কুমার, জেলে,তাঁতী, কৃষক, কলকারখানার শ্রমিক, দর্জি, রিক্সা-ভ্যান চালক,মেথর, ধোপা, মুচি, পরিচ্ছন্ন কর্মী, মালী, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী ইত্যাদি শ্রমজীবী মানুষ যাঁরা শারীরিক শ্রম দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সেবা দিচ্ছেন বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আর এদের স্বপ্নকে পুঁজি করে রাষ্ট্রব্যবস্থার নামে বিলাসী জীবন কাটায় এদেশেরই গুটিকয়েক মানুষ যাদের সংখ্যা ১৫% এরও কম তবুও এরাই এলিট শ্রেণি মূলত এরা ফ্যাসিস্ট মতবাদের উপর ভিত্তিকরে বাকি ৮৫% মানুষকে তাদের শোষণের সকল অমীয় কৌশল মানতে বাধ্য করে না মানলে জনগণের অর্থে লালিত নিরাপত্তা বাহিনী জনগণকেই পেদিয়ে পাদিয়ে দেয়। একদল মানুষ হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে সামান্য রোজগার করে ট্যাক্স দিয়ে রাষ্ট্র বাঁচায় আর সেই টাকায় সরকারি আমলা-কামলা নামে মন্ত্রী,সচিব,ডিসি,এসপি,অফিসারস্ মোটা টাকা বেতন ,গাড়ি সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তা,রেশন ,আবাসন,বোনাস,পেনশন ভোগ করে রাষ্ট্র চালায় !

ভেবেছেন! মিথ্যা বললাম না তো কিছু? মন্ত্রীর দায়িত্ব কি ? সচিব কেন প্রয়োজন? ডিসি-এসপি কার জন্য নিয়োজিত? পুলিশ কার রক্ষক? সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন দিয়ে কার সেবায় নিয়োজিত করা হচ্ছে? এসব ভাবতে হবে ,বিশ্লেষণ করতে হবে তাহলেই রাষ্ট্রের শোষণের চরিত্রটি সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আসুন একটা গল্প শোনাই ,আমি একবার একটা চাকরির জন ্যআবদন করেছি ,হ্যা সরকারি দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর পদে । একই পদে আবেদন জমা হয়েছিলো বারোশ চৌত্রিশটি । লিখিত পরীক্ষা হলো মেধার জোরে পাশ করে গেলাম ,ভাইভায় ডাকা হলো কিন্তু এই লিখিত পরীক্ষা আর ভাইভার তারিখের দূরত্ব ছিলো প্রায় ৩মাস এই সময়ের মধ্যে আরো ২টি ঘটনা ঘটল ।

প্রথমে বাসায় পুলিশ আসল ভেরিভিকেশনের জন্য, বাবার সাথে কথা বলে তিনি বাবাকে বোঝালেন ছেলে সরকারি চাকরি পেলে আপনার আর দর্জি থাকতে হবে না সব কষ্ট চলে যাবে আর চাকরি পেতে ক্লিন ইমেজ দরকার আর এসনদতো আমাকেই দিতে হয়, সরকারি বিধানমতে পুলিশ হলো কষ্টিপাথর আর তার দায়িত্ব সকল অপবিত্রকে নিজের সংস্পর্শে এনে ক্লিন ইমেজ করে দেওয়া আর আপনার ছেলেতো হীরের টুকরো সনদ লেখাই আছে এখন পাঠানোর জন্য একটু খরচা প্রয়োজন আর কি ! আমার বাবা এই ব্যবস্থার সাথে পূর্বেই পরিচিত কারন এটা এখন রাষ্ট্রের প্রথা বলা চলে তাই তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন তা মিষ্টির প্যাকেট কততে কিনবেন? দুপাটি দাঁত বের করে গদগদ কন্ঠে পুলিশ অফ ই সার (হাউব্রিট বোঝাতে) বলল

পার্ট-৩

আচ্ছা আমাদের দেশের শতকরা কজন কৃষক গ্রাজুয়েট বা ইন্টারমিডিয়েট পাশ? কতজন গার্মেন্টস্ শ্রমিক গ্রাজুয়েট? কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে, মাঝি, মুচি, রিক্সাচালক এরা কত শতাংশ মাদ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত? যে পেশার কথা বললাম এতে নিয়োজিত শ্রমজীবিরা দারিদ্রের কারনে পেটে ভাত জোটাতে শ্রম দিয়ে উপার্জন করতে নেমেছেন যেখানে বেচেঁ থাকা দায় সেখানে শিক্ষাতে বিলাসীতা এটাই তাদেঁর বক্তব্য।

শুনলাম আমাদের রাষ্ট্র কি বলে! কেন স্বাধীন রাষ্ট্রে ৪৮ বছরেও এই ভঙ্গুর দশা। কেন মানুষ এখনও খাদ্যের, বাসস্থানের নিরাপত্তা পায়নি? কেন এত বিপুল পরিমান শ্রমশক্তি শিক্ষার থেকে বঞ্চিত? কোন এক মন্ত্রী বলেছিলেন সবাই গ্রাজুয়েট হলে মালি হবে কে? তার মানে উনাদের চিন্তায় একজন মালি কখনই উচ্চশিক্ষিত হতে পারবে না কারন তারা অর্জিত শিক্ষা তাকে ফুলের গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় বাধা দেবে সে চাইবে সমাজের উচুঁ স্তরের সৌখিন কাজে নিয়োজিত হতে তার মানে বোঝাই যায় সমাজ ব্যবস্থা এমন একটি পন্থা অবলম্বন করেছে যেখানে কষ্ট ও শ্রমের কাজ কেবল মূর্খের জন্য আর বুদ্ধিভিত্তিক কর্ম শারীরিক শ্রমের জন্য শিক্ষিত এখানেও দুটি শ্রেণি একটি শারিরীক শ্রমের জন্য শিক্ষিত আর একটি মানসিক শ্রমদাতা শ্রেণি আর একটি শিক্ষিত শ্রেণি অপরটি অশিক্ষিত শ্রেণি।

কাজেই এটা স্পষ্ট সমাজ ব্যবস্থায় কাজকে জীবনের প্রয়োজনে, জীবিকার প্রয়োজনে দেখার বিপরীতে শ্রেণিভিত্তিক ভাগ করে তাদের শ্রেণির জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়মপ্রনয়ন করেছে যাতে করে অশিক্ষিত শ্রমিকরা সারাজীবন গাধারমত শ্রম দিবে অথচ ঘাসের ন্যায় সামান্য সুবিধা তাদের প্রাপ্য তার শিয়ালপন্ডিতের মত জ্ঞানীরা বাঘমামার পদলেহ্যন করে বুদ্,িধর জোড়ে কম শ্রমেই বসেবসে সেই গাধার রক্ত মাংসের শ্রমকে অধিক হারে ভোগ করবে। আচ্ছা আপনার কি মনে হয় না এই পৃথিবীর সবাই মানুষ সবার শিক্ষালাভের অধিকার তাথা উচিত? সবাই উচ্চশিক্ষিত হবে জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তি সব জ্ঞান তাদের থাকবে, শিক্ষা তাদের কে শেখাবে কাজ করা আমাদের কর্তব্য একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি জুতা সেলাই করবে রিক্সা, ভ্যান চালাবে, কৃষিকাজ করবে আবার কেউ কেউ অফিস আদালতে বসবে, লঞ্চ স্টিমার চালাবে, নৌকাও চালাবে তাতে কার শ্রমের ব্যবহার হবে ফলে তার উপার্জন হবে আর নদীপার হতে যে নৌকার পারাপার আবশ্যক সেই কাজটিও তার দ্বারা সম্পন্ন হচ্ছে অথচ তার অর্জিত জ্ঞান তার হৃদয়কে শক্তিমান করেছে সে নিজেকে এই সমাজের যোগ্য উত্তরসূরি ভাববে এখানে সবাই সমান শিক্ষিত অতএব কেবল কর্মের দ্বারা শ্রেণি বিভাগ করা যাবে না কারন জ্ঞান গরিমায় সবাই একাকার।

অথচ আমাদের ধারনা আমরা উচ্চশিক্ষিত হলে কেবল অফিসকক্ষ, টেবিল চেয়ারে বসাই আমাদের প্রাপ্য। আমরা ভাবতেই পারি না এদেশের ৩কোটি যুবক সবাই গ্রাজুয়েট এদেশের ১ কোটি মানুষ সবাই সমান শিক্ষিত হবে এবং দেশের ও সমাজের স্বার্থে সে তার শ্রমকে নিয়োজিত করে জীবিকা নির্বাহ করবে এক্ষেত্রে তার জ্ঞান চর্চার জন্য সে সাহিত্য রচনা করবে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করবে নতুন কিছু আবিস্কার করবে, প্রচযুক্তির ব্যবহার করবে উচুঁ নিচু, জাত পাত সব ভেদাভেদ দূর করতে তাদের শিক্ষিত নয় বেবল উচ্চ শিক্ষিত হতে হবে। নিজের কাজকে নিজের দায়িত্ব ও উপার্জনের মাধ্যম মনে করতে হবে। ভাবতে হবে এটা তার সামাজিক দায় সে এই কাজটি করার মধ্যদিয়ে সমাজের চাহিদা পূরণ করছে ও উপকার করেছে।

এক্ষেত্রে একজন নৌকাচালক, একজন উকিল, একজন মন্ত্রীর বডি গার্ড, একজন কৃষক, একজন সচিব সকল শ্রজীবি পেশাজীর গড় আয় যেন সামনজস্যপূর্ণ হয় সে দিক বিবেচনা করে নীতি প্রনয়ন হবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই তো সাম্য, আপনি কি বলেন?

পার্ট-৪

বাঙালির জাতির ঐতিহ্যের অন্যতম বিশেষত্ব তার সাংস্কৃতিক বিকাশ ভাওয়ালি, মুশির্দি, জারি, সারি, কীর্তন, পাহাড়ি নৃত্য, মনিপুরী নৃত্য, সাধারন নৃত্য, আধুনিক নৃত্য, রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, গদ্যপাঠ, প্রবন্ধ লিখন, অনুচ্ছেদ রচনা, উপন্যাস, গীতিকাব্য, জীবনী আরোকত কি সাহিত্য-সংস্কৃতির বিপুলতা রয়েছে এই বাংলায় তা আমাদের এখনো অজানা এই সম্পদ যা আমাদের একান্ত আমাদের কারন আমরা বাঙালি। বলা হয় বাঙালির ১২মাসে ১৩পার্বন এজন্যই আমরা উৎসব প্রিয় জাতি। কিছুটা বিলাসীতা ও আমাদের মধ্যে আসতে চায় তবে শৌখনতা আমাদের চরিত্রগত।

এতসব সম্পদ আমাদের রয়ছে তবুও আমরা শূন্যতা অনুভব করি কেউকেউ পরিচয় হীনা বলে নিজেদের আত্ম পরিচিতি খোজাঁর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কিন্তু সঠিক পথের পাশ দিয়ে অন্ধকারে হারিয়ে যায় যেতে যেতে কাঙ্কিত পথভ্রষ্ট তারচেয়ে অধিক দুর্ভাগ্য। কুসংস্কার আর গোড়ামি তাদের মাথায় চেপে বসে সর্বাঙ্গ আবরিত করে যেন আপাদমস্তক আচ্ছাদিত তবে নিয়মকরে গোড়ালিটুকু বের করে রাখে এটুকুই জায়েজ তবে নারীর ক্ষেত্রে নখ প্রদর্শন ও পাপ। যদি আবৃত করে রাখলেই সোনার পবিত্রতা রক্ষা হত তবে তা কখনই অলঙ্কারের মর্যাদা পেত না। আমার দেশ আমার সর্বভৌমত্ব আমাদের ঐতিহ্য আমাদের অহংকার আমাদের এই সাংস্কৃতিক ধারা তাই অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এই সংস্কৃতিকে চর্চা করা, লালন করা প্রসার করা আমাদের কর্তব্য।

যদি বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রাম না হতো তবে আজ আমরা কোন অশুদ্ধ ধার করা ভাষায় কথা বলতাম হয়ত অর্ধেক না বলা কথা চিরকালে না বলাই থাকত কারন দাতঁ রক্ষা করাই তখন একমাত্র লক্ষ্য হতো। সংস্কৃতি কেবল নিছক বিনোদন নয় আমাদের অন্তর আত্মাকে সজিব করে মনের প্রশান্তি আনে এই সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো এতে থাকে মেধা, মনন, প্রজ্ঞা, শ্রম, সাধনা, এক নিষ্টতা, শৃংঙ্খলা, জীবনের স্পন্দন। একটি হারিয়ে যাওয়া শিল্প হলো পটের গান এই পরিবেশনায় চিত্রশিল্পীরা নির্দিষ্ট একটি কাহিনী বা গল্পের বিভিন্ন চরিত্র ও দৃশ্য কাপড়ের উপর সুনিপুনভাবে আকঁতেন চিত্রের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজানো থাকত এই পটভূমির চিত্রমালা একজন গায়ক সুরে সুরে চিত্র প্রদর্শন করে দর্শকদের সেই কাহিনী বর্ননা করে শোনাতেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনত দর্শকরা । এই পট তাদের জীবনের কথা বলত তাদের শ্রমের কথা কথা বলত তাদের পূর্বোযদের কথা বলত।

তাই সংস্কৃতি মানুষের জীবনের বাহক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সকল ঘটনাই তার সংস্কৃতিতে একসময় স্থায়ী অবস্থান করে নেয়। সংস্কৃতি মানুষের আহার, পোশাক ,বৈশিষ্ট্য, আচরণ,পরিবেশ ইত্যাদি সবকিছুর এক পরিপূর্ণ বিন্যাসের প্রতীক। যখনি এদেশে কোন শকুনের কুদৃষ্টি পড়েছে তখন সর্বাগ্রে আগ্রাসী থাবা এসে পড়েছে আমাদের সংস্কৃতির উপর ওরা কখনো আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছে কখনো অধিকার আবার কখন ভ’মিই কেড়ে নেবার চেষ্টা করেছে কিন্তু বাঙালি বীরদর্পে যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে তার ভাষা ,অধিকার, ভূমি সবকিছু আর সকল ক্ষেত্রে তাদের অনুপ্রাণিত করেছে তার প্রাণ তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক চেতনা।

বাঙালি কেবল নৃত্য-গীতে এগিয়ে তা নয় ভুড়ি ভোজেও তার জুড়ি নেই । পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোন জাতি আছে কি না সন্দেহ যারা তিনবেলা পেটপুরে ভাত-ডাল-সবজি-মাছ-মিঠাই এমনকি ফলও খতে পারে । এতো বললাম নিয়মিত আহার এছাড়া শতরকম পিঠা-পুলি ,পায়েস,শতরকমের মাছ ,মাংস,ভাজা-পোড়া মানে শর্করা-স্নেহ-আমিষ যাই বলনা কেনো সবদিক মিলিয়ে এক অনন্য খাদ্য প্রিয়জাতি বলা যায়, এদের মেনু তালিকা দিয়েই কয়েকশত পাতার বই রচনা করা যেতে পারে । এমন স্বংয়সম্পূর্ন-পরিশ্রমী-বিনোদন প্রিয় জাতি বিশ্বের অদ্বিতীয় তবে একবিংশ শতাব্দিতে এসে কেন এসব চিত্র বিরল! এই ভাবনা এখন এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীরা সহ এই প্রজন্মের ইতিহাস পাঠকদেরও ।

কোথায় গেলো এত সম্পদ এত হাসি এ উৎসব কোন কালোছায়ার আঁধারে লুকিয়েছে ? এই প্রজন্মের তরুণরা সেই অন্ধকারকে দূর করে তাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা দেখতে চায় সেখানে প্রতিটি পরিবার এক একটি সূর্যমুখী ফুল ,এক একটি সমাজ এক একটি বাগান , পুরো দেশ সমস্ত বিশ্বজুড়ে সবাই সমান সবার লক্ষ্য এক এই পৃথিবীকে আরো সুন্দর করে নিজের জীবন ধারণ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর করে রেখে যাওয়া ,তাই নিরলস শ্রম দিয়ে সুন্দরের আহবান করা ।

কারো অভাব থাকবে না ,গোলা ভরা ধান,মাঠে সবজি,নদীতে মাছ,কলকারখানায় উৎপাদন হবে নিত্যনতুন পণ্য যা দেশের মানুষের জন্য পৃথিবীর মানুষের জন্য কেবলমাত্র মুনাফা অর্জনের জন্যই নয়,কারন সকল উৎপাদন যন্ত্রের মালিকানা থাকবে রাষ্ট্রের হাতে ব্যক্তির নয় আর রাষ্ট্রের লক্ষ্য থাকবে সুষমবন্টন ও জনকল্যান। এমন সমাজ আমার স্বপ্ন , আপনি চাইলেই আমাদের ভবিষ্যৎ এমন হতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন থাকে মানুষের জীবন জীবিকার জন্য কি সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ? কি ভাবে সংস্কৃতি মানুষকে সুখী সুন্দর করতে পারে? যদিও উত্তরটি সহজ তথাপিও বাস্তবতা ভিন্ন। সংস্কৃতি চর্চা মানুষকে উদার করে একজন মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ কখনই অন্যায় করে না ,তার চিন্তা চেতনার যে পরিবর্তন ও বিকাশ হয় তাতে সে পৃথিবীকে সাম্যের যায়গায় প্রতিস্থাপিত করে সুখী হতে চায়। ভাবুনতো এদেশের সকল মানুষ যদি এমন হয়ে যায় তাহলে কেমন হবে? মালিক যদি তার সকল মুনাফা শ্রমিকদের সমহারে বন্টন করে দিয়ে একজন শ্রমিকের সমপরিমান অর্থে নিজের জীবন যাপন করে সমাজে সাম্য কি আসবে না? যদি শ্রমিকরা সততার সাথে কাজে নিয়োজিত থাকে তাহলে উৎপাদন কি বাড়বে না? যদি গুণগতমান ও সঠিক মূল্যে পণ্য বাজারে আসে তবে কি ভোক্তা বেশি হবে না?

বিক্রী বাড়বে,মুনাফা বাড়বে শ্রমিকের আয় বাড়বে তারাও খেয়েপরে সমাজের ব্যালেঞ্জে থাকতে পারবে । সকলের জন্য একই বই-একই রকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-একই চিকিৎসা সেবা-যানবাহন পরিসেবা-থাকার বাসস্থান ব্যবস্থা থাকে তাহলে ধনী-গরীব এই বৈষম্যই থাকবে না সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যে ভরে উঠবে পৃথিবী । তাহলে এত সহজ যে বিষয়টি এত সহজে হবার তা কেন হচ্ছে না? কারন সবাই সংস্কৃতির চর্চা করছে না! কুসংস্কার বাল্যকাল থেকেই তাদেরকে অন্ধকারে পতিত করেছে । তাদের বোঝানো হচ্ছে তুমি আর ওরা(সাম্প্রদায়িকতা) আলাদা । তুমি হবে বিসিএস ক্যাডার ওরা হবে তোমার ড্রাইভার (শ্রেণি বৈষম্য) ।

তুমি হবে বক্তা ওরা শ্রোতা ,তুমি হ্যান বললে ওরাও হ্যা বলবে । তাহলে সংস্কৃতির পশ্চাৎ পদতার পিছনে অপসংস্কৃতির যে বেড়াজাল রয়েছে তাকে ছিড়ে ফেলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক আন্দোলন এ আন্দোলন শুরু করতে হবে ব্যক্তিগতভাবে । নিজেকে সংস্কৃতির চর্চায় নিয়োজিত করতে হবে আকৃষ্ট করতে হবে পরিবারকে , সমাজকে। আর যখন সমাজে এই এন্টিবায়োটিক বিস্তারলাভ করবে তখন কুসংস্কার পালানোর পথ খুঁেজ না পাবে না। আসুন নিজেকে সুন্দর করতে ,দেশ ও পৃথিবীকে সুন্দর করতে সংস্কৃতিতে যতœবান হই।

পার্ট-৫

আমরা জন্মগতভাবেই চাকর হবার আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে থাকি। আমাদের পিতা-মাতা,আত্মীয়-পরিজন সকলেই চান আমারা যেন বড়কর্তার পদলেহ্যন করে বেঁচে থাকি। আর এই চাকর ছেলেকে নিয়েই সবার গর্বের অন্ত থাকে না। আমরা প্রজন্মকে মনে করি আমাদের ফটোকপি আমার প্রপিতামহ যেমন ছিলেন আমার বাবা তেমনি করেছেন অনুরূপ আমাকেও আমার পিতার অনুকরণ করতে হবে। পিতা চাকরি করলে আমাকেও চাকরি করতে হবে,পিতা ব্যবসায়ী হলে আমাকেও পারিবারিক বিজনেস সামলাতে হবে এসব পরম্পরা। কিন্তু এই পরম পড়া যে মানুষের নিজস্বত্ব সৃজনশীলতা ধ্বংস করে কেবল বানরের মত অনুকরণ প্রিয় করে তুলছে ফলে সকলি গতানুগতিক ধারায় চলে যাচ্ছে তা কি আমরা ভেবেছি!

একটি শিশু জন্মের ক্ষণগণনা থেকেই ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার বা বিসিএস ক্যাডার হতে হবে এমনি সুর বাজতে থাকে অনাগত মিশুর পিতা-মাতার মুখে ,কিন্তু কেউ চায় না আমার সন্তান একটু স্বাধীন হবে সে পৃথিবীতে আসছে তার অধিকার আছে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার । তার বাঁচার জন্য যেকোন সৎকর্মকে সে পেশা হিসেবে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে যদি পৃথিবীকে উপভোগ করতে পারে যদি আনন্দ পায় তবেই যথেষ্ট ? না এমন ভাবা অসম্ভব কারন পিতা-মাতারা জানেন যেমন তেমন পেশায় ভাত জুটলেও ভাল থাকা যায় না কারন আয়ের বেষম্য আছে।

একজন সরকারি কর্মচারী ৮ঘন্টা ডিউটি করে নূন্যতম দৈনিক বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১০০০/- আর কলকারখানা বা ক্ষুদ্র পেশার মানুষটির দৈনিক ১২-১৪ঘন্টা হাড়ভাঙ্গা শ্রমের আয় ২০০-৩০০/- বা তার কমও হয়ে থাকে এবং তার কাজের নিরাপত্তা না থাকায় কাজ না করলে উনুনে হাড়ি বসে না। কিন্তু প্রতিটি মানুষ এই পৃথিবীর জীব এই রাষ্ট্রের মানুষ তথাপিও এই আয় বেষম্য এত প্রকট কেন? সবাই ওই সীমিত সংখ্যক সুবিধার জন্য চেষ্টা চালায়, কিন্তু বৃহৎ জনগোষ্ঠী ওই সীমিত আয়ের দলে থাকে তারপরেও আমরা আমাদের সন্তানকে অসম প্রতিযোগীতার জন্যই প্রস্তুত হতে বলি ,কখনই এটা বলি না পারলে তুমি বড় হয়ে এই অসমতা ভেঙ্গে সমতা ফিরিয়ে আনো। যেখানে কাজ হবে মানুষের জীবনের প্রয়োজনে সবার শ্রমের মূল্য হবে সমান।

একজন রিক্সা চালক যেন দৈনিক ৩০০ টাকা আয় দিয়ে ও সমান সুযোগ পেয়ে বাচঁতে পারে তাই তাকে তুলনামূলক কমমূল্য ন্যিপ্রয়াজনীয় পণ্য সরবরাহ করতে হবে এটা ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে কারন দৈনিক মজুরী, বেতন আর কাজের বিপরীতে আয় সমাজ না হলে তখন তুলনামূলক সুবিধা দিতে রাষ্ট্রকে এই নীতিপ্রনয়ণ করতে হবে আচ্ছা ভালো কথা মনে পড়ল রাষ্ট্রনীতি! ঠিক তো রাষ্ট্রনীতি প্রনয়ন করলেই তো সবাই মানতে বাধ্য রাষ্ট্র যদি শ্রমিকের কষ্টকেপ্রধান্য দিয়ে আয়েশিরুমে ফাইল স্বাক্ষর করা সচিবের সমান শ্রমমূল্য দেয়ার নীতি প্রস্তুত করে তবেই তো ভারসাম্য রক্ষা হতো সমাজে সবাই পেশাকে কেবল জীবিকার মাধ্যমে মনে করত আর যে কোন পেশাতেই স্বাচ্ছন্দ্যে শ্রমদিত। এতে সমাজে শ্রণি বৈষম্য আর ভেদাভেদ দুরত্ব দূর হতো।

কিন্তু রাষ্ট্র কি এই নীতি করবে? কেন করবে? কে করবে? নীতি তৈরি হয় আইন সভায় আইন সভায় কারা বসে? অবশ্যই যারা জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি (সংসদ সদস্য) তা কি করে এমপি হন না একজন রাজনীতিবিদ সনির্বাচনে জয়ী হয়ে এমপি হন তাহলে নীতি প্রনয়ন করে এই সমাজের চাকাকো উল্টো দিকে ঘোড়াতে কোন কাজে মননিবেশ করা প্রয়োজন? কেন প্রয়োজন? সকল প্রশ্নের উত্তর এখন স্পস্ট কাজেই যারা বলছেন রাজনীতি করা ঠিক নয় এটা এখ নষ্ট হয়েগেছে রাজনীতি করা ঠিক নয় এটা এখন নষ্ট হয়েগেছে রাজনীতি মানে ঘুম-কুন আমি তাদের সাথে একমত তবে! আমরা কেন এই কলুষতাকে দূর করার চেষ্টা করব না? আমরা কেন সেই নীতি নির্বাচনী পর্যায়ে আমাদের যোগ্য প্রতিনিধি বসাব না যে আমাদের স্বপ্নকে বাস্থব করবে। কেন আমরা খালি মাঠে ব্যবসায়ী শোষক শ্রেণিকে আরো ক্ষমতাশালী করে দিচ্ছি কেন আমাদের কষ্টের কারনকে আমাদের দূভার্গ্য রচনার পদে বিনা প্রতিবাদে বসাচ্ছি? তাহলে তাদের অসভ্যতার দায় আমাদেরও আছে এখনসময় এই দায় মুক্তির তাই আমাদের সাম্যের সমাজ প্রতিষ্টায়ে আমাদের ঐক্যবদ্দ হতে হবে নীতি নির্ধারনী আইন সভায় আমাদের সংখ্যাগরিষ্ট প্রতিনিধি রাখতে হবে আর এজন্য এদেশের তরুন শিক্ষিত মেধাবী প্রতিটি মানুষকে কেবল কেরানীু হবার স্বপ্ন দেখলে চলবে না নীতি নির্ধারক হবার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে তখন না হয় যোগ্যতা বিচারে সচিব বা শ্রমিক যাই হই না কেন জীবিকা তো একই রকম হবে ক্ষতিকি সবাই এক হয়ে সুখী হলে! আসুন নীতি নিধৃারক হতে রাজার পদে বসে রাজনীতির ধারা পাল্টতে যোতবদ্দ হই।

বেশি না আমরা ৬জনতো মিল মতো হলেও হয় । বাবা সেদিন তার মাসের বাজার খরচের জন্য রাখা তিনহাজার টাকা অনেক অনুনয়ের সাথে দিয়ে বিদায় করলেন তাদের।

ক্লিন ইমেজের সনদ পেয়েই হয়ত ভাইভার ডাক এলো ,বাবা নতুন শার্ট আর প্যান্ট কিনে দিলেন । নতুন পোশাকে নতুন দিনের আশায় এখন আমি ভাইভা বোর্ডে । ভাইভা বোর্ডে সকল সনদ দেখে খুশি পরীক্ষকরা,প্রশ্নের যথাযথ জবাবেও পুরো নম্বর দিতে বাধ্য হলেন। রুমে থেকে বের হবার সময় বলেদিলো ৬নম্বর কক্ষে যেন দেখা করে যাই। এখন আমি ৬নম্বর কক্ষে যেখানে আমার সকল শ্রমের চূড়ান্ত প্রত্যয়ন দেয়া হবে কক্ষে একজন ভদ্রলোক বসা তিনি জানালেন আমার সব ঠিকঠাক চাকরি আমার প্রায় নিশ্চিত তবে! কর্তৃপক্ষের একটা খুশীর বিষয় আছে তারা আমার চাকরি হওয়ার জন্য মিষ্টিমুখ করতে মাত্র পাঁচলাখ টাকা চেয়েছেন। একটা একাউন্ট নম্বর আর ফোন নম্বর দিয়ে বললেন টাকাটা এসপ্তাহের মধ্যে ব্যাংক একাউন্টটিতে জমা করে ওই নম্বরে যেন ফোন করে নিশ্চিত করে নিয়োগপত্র নিয়ে যাই। আমি বললাম এতটাকা কোথায় পাবো? যদি টাকাটা না দিতে পারি …কথা মেষ না করতেই ভদ্রলোক হিংসা জন্তুরমত রেগে বললেন চাকরি হবে না যাওতো যাও ।

চাকরিটা হলো ,আমাদের প্রতিবেশী ছগির কাকার ছেলে নগেনের। ছগির কাকা বিশালমাছ ব্যবসায়ী এ শহরের এমপি মন্ত্রীদের সাথে তার চায়ের টেবিলে আডডা দেয়ার সম্পর্ক আর ৫-৭লাখ টাকাতো তার পকেট খরচ। এইহলো রাষ্ট্রের পয়সার হিসেব যেখানে ঘুষ নেয়া সরকারি কর্মকর্তাদের মিষ্টি খাওয়ার মতই সুস্বাদু মনে হয়।

আমি চ্যালেঞ্জ করেই বলতে পারি প্রায় প্রতিটি সরকারি কর্মচারীর নিয়োগের পেছনে এই প্রথার গল্পটা খুঁেজ পাওয়া কঠিন নয়। অথচ রাষ্ট্রের কর্তব্যছিলো এদেশের মানুষের জীবনরক্ষা করা ,তাদরে নিরাপত্তা দেয়া, খাদ্র,বস্ত্র, চিকিৎসা,বাসস্থান শিক্ষা জনস্বার্থে নিশ্চিত করা। এসব প্রত্যাশা কবে পূরণ হবে? এই স্বপ্ন সত্যি করতে চাই আমাদির এক্য । এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মাথাতুলে দাঁড়াতে হবে বোঝাতে হবে শাষক রূপে শোষক চাই না। আমাদের রাজা আমাদের মতের গুরুত্ব দেবে , আমাদের সবার জন্য একই রকম ঘর,একই রকম সুবিধা নিশ্চিত করবে। আমাদের রাষ্ট্রই হবে আমাদের মালিক আমরা তার জন্য শ্রম দেবো এর মধ্যে আর কোন মালিকরূপী পুঁিজপতি , মুনাফাভোগী থাকবে না।

এই প্রসঙ্গে কার্ল মাকর্স বলে ছিলেন : “পুঁজির তলায় বসে থাকা মানুষেরা অর্থাৎ দরিদ্র মানুষেরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছন। কারন তার আদতে হারাবার কিছুই নেই। সব হারিয়ে তিনি তলানিতে দাঁড়িয়ে আছেন ফলে সমস্তকে উল্টে পাল্টে সজীব করে তোলার কাজটি তিনিই করবেন আর এটাই বিপ্লব।

আসুন সেই বিপ্লবের স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারন করে যোতবদ্ধ হই আমাদের আগামীর প্রত্যাশায়।

৫। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সঙ্গীত
কথা:- আকতার হুসেন
সুর:- শেখ লুৎফর রহমান

আমরাতো ঐক্যের দৃঢ় বলে বলীয়ান
শোষণের কারাগার ভাঙবোই
শিক্ষার আলোকে প্রতি গৃহকোণকে
রাঙবোই আমরা তো রাঙবোই।

হাতে হাত রাখো ভাই
দৃঢ়পণে জাগো ভাই
হাতে হাত রাখো ভাই
দৃঢ়পণে জাগো ভাই।

আগে বাড়ো আগে বাড়ো
দুর্জয় দৃঢ়তায় আর নয় দেরি নয়
আমাদের হবে জয়
এসো মিলি মুক্তির পতাকায়।।
আমরাতো শক্তির দুর্বার সৈনিক
শুনি না তো আহ্বান ধ্বংসের
আমরা তো আমরণ প্রগতির পক্ষে
গড়বোই বিশ্বতো সাম্যের
হাতে হাত রাখো ভাই(…)

আমরাতো স্বদেশের দুর্জয় প্রহরী
স্বদেশের মাটি তাই গরিয়ান
আমাদের অবিরাম শ্রমে আর ফসলে
ফোটাবোই স্বদেশের মুখে গান
হাতে হাত রাখো ভাই(…)

আমরা তো মিলেছি পৃথিবীর লাঞ্ছিত
সংগ্রামী মানুষের কাফেলায়
যেখানেই মুক্তির সংগ্রাম সেখানেই
আমরাতো মিলি লৌহ দৃঢ়তায়
হাতে হাত রাখো ভাই(…)।।

১/ মূলনীতি:
ঐক্য, শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি।

২। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য:
ক. ছাত্র হিসেবে নিজেকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা, পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করা, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান আয়ত্ব করা এবং জনগণের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান বিস্তারে ভূমিকা রাখা।
খ. প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা।
গ.নিজেকে সৎ, নিষ্ঠাবান, আদর্শবান,দেশপ্রেমিক, অসাম্প্রদায়িক, ত্যাগী ও বিপ্লবী হিসেবে গড়ে তোলা।
ঘ. ছাত্র সমাজ ও জনগনের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করা।
ঙ.ছাত্র সমাজের কাছে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তুলে ধরা এবং ব্যাপক ছাত্র সমাজকে প্রতিষ্ঠানের পতাকা তলে সমবেত করা।
চ. সাংগঠনিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বমূরক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা।

৩। শপথনামা:
লাখো লাখো শহীদ য়াঁরা ভাষা, স¦াধীনতা, গণতন্ত্র, সমাজপ্রগতি, শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্রাজ্যবাদ-সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ ও স্বৈরাচার-বিরধী সংগ্রামে তাঁদের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ ‘জীবন’ কে াুৎসর্গ করেছেন- তাঁদের রক্তের নামে আমরা শপথ গ্রহণ করছি যে, সেই সকল বীর শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।
আমরা শপথ গ্রহণ করছি যে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের প্রতি অবিচল থেকে সংগঠনের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র মেনে চলব্ ো আমরা আরো শপথ গ্রহণ করছি যে, এদেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুসের মুক্তির সংগ্রামে প্রয়োজবোধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করবো। শিক্ষা-গণতন্ত্র-সমাজগ্রগতির লড়াইকে এগিয়ে নেবো- শহীদের স্বপ্নসাধ

বাস্তবায়নে-
আমরা আমাদের সংগ্রামকে অব্যাহত রাখবো
আমরা আমাদের সংগ্রামকে অব্যাহত রাখবো
১৯৫২ সালের ২৬ শে এপ্রিল প্রতিষ্ঠা হয়ে আজও স্বগৌরবে এদেশের ছাত্র-জনতার কাছে সংগ্রামী ভূমিকায় গতিশীল ও গ্রহনীয় রয়েছে।

কিছু বিশেষ বাণী ও কথা
# “রাজনীতি ,বিজ্ঞান,শিল্প চর্চার আগে মানুষের ভাবতে হয় রুজি-রুটির কথা”ÑÑ (মার্কস)
# পুঁজির তলায় বসে থাকা মানুষেরা অর্থাৎ দরিদ্র মানুষেরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। কারন তাঁর আদতে হারাবার কিছুই নেই । সব হারিয়ে তিনি তলানিতে দাঁিড়য়ে আছেন । ফলে সমস্তকে উল্টে পাল্টে সজীব করে তোলার কাজটি তিনিই করবেন মাকর্স যাকে বলেছেন বিপ্লব।।
# ধনিক প্রথায় সমাজের প্রায় সব ধন-সম্পত্তি মুষ্টিমেয় ধনিকের হাতে বিপুল পরিমানে জমা হয় এবং এরই অনিবার্য ফলস্বরূপ জন সাধারণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় সমাজকে যদি চালু রাখতে হয় তাহলে, কিছু কিছু অর্থ সাধারণের জন্য বন্টন ছাড়া উপায় থাকে না তখন শোষণের অর্থকে দান নামে কিছু বিতরণ করে।
# ধনিক প্রথা অল্প মানুষের জন্য বহু মানুষকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করেছে। সমাজতন্ত্র অনেকের জন্য অল্প কয়েকজনকে (যারা শোষক) ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করবে এবং ব্যাপক জনগণকে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার ও সুযোগ দেবে।

# সমাজতন্ত্রে সমাজের বেশিরভাগ মানুষের স্বার্থ দেখা হয় বলেই একমাত্র সমাজতান্ত্রিক সমাজ বর্তমানে বিপ্লবী স্থান গ্রহণ করতে পারে।

# মাকর্সবাদ হলো শ্রমিকশ্রেণির দর্শণÑযার ভিত্তি হল বস্তুবাদ এবং যার পদ্ধতি হল দন্দ্বমূলক । দন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হল শোষণ বৈষম্যেভিত্তিক সমাজকে পরিবর্তন করার মতাদর্শগত ও দার্শনিক হাতিয়ার।

প্রতিবাদী কবিতার কিছু চরণ
# নিদ্রাহীন রাত্রির প্রহর-কোথাও সুস্থতা নেই । এ সময়ে শোষণের সুশোভন নামই সুস্থতা, তুমি সেই সুস্থতার নিবোর্ধ প্রতীক।
#সত্যে আছি বলে ভয়কে করেছি জয়,ভয় পেতে পেতে আজ কেটে গেছে ভয়। আমি হার মেনে নিতে রাজি নই যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ-লিখে যাবো । দারিদ্র আমাকে করবে মহান।

সাম্প্রতিক বক্তব্য
রুহনি হোসনে প্রন্সি বলনে,“ আমরা যে শক্ষিা লাভরে অধকিার পাচ্ছি তার জন্য মূল কৃতত্বি এই দশেরে কৃষক-শ্রমকিদরে। কারন তাদরে কষ্টরে টাকায় দশে চল,েতাদরে ট্যাক্সরে টাকায় আমাদরে শক্ষিা লাভ নশ্চিতি হয়। আজকে আমাদরে দশেরে মানুষ ভাল নাই,গরীব আরো গরীব হচ্ছে ধনী হচ্ছে ধনী। আমাদরে এই কৃষক-শ্রমকিদরে সাথে নয়িে আন্দোলন করতে হবে দশে বাঁচাত।ে কৃষক- শ্রমকি- ছাত্র- জনতার যুথবদ্ধ আন্দোলনই বাংলাদশেরে ভবষ্যিৎ নর্ধিারণ করব।ে”

অনকি রায় বলনে,” জলোয় জলোয় শক্ষিা বষৈম্যে দূর করার দাবি আমরা করছি এবং কভিাবে এই বষৈম্য দূর করা যায় তারও পথ আমরা সরকারকে দখেয়িে দয়িছে।ি আমরা বলছেি র্কপোরটে কোম্পানগিুলোর উপর তাদরে বাৎসরকিলভ্যাংশ থকেে ৫% এডুকশেনাল সারর্চাজ আরোপ করতে হবে এবং আমরা হসিবে করে বলে দয়িছেি এর থকেে যে প্রাপ্ত র্অথ তা দয়িে প্রত্যকে জলোয় নতুন করে নুন্যতম ৫০ কোটি টাকা বনিয়িোগ করা সম্ভব। এ দয়িে সরকারী শক্ষিা প্রতষ্ঠিানরে সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মান উন্নয়ন করা সম্ভব। কন্তিু যদি আমাদরে দাবি না মানা হয় তা হলে কভিাবে দাবি মানাতে হয় তাও আমরা বাংলাদশে ছাত্র ইউনয়িন জান।ে এ বছররে মধ্যে যদি আমরা সরকাররে উদ্যোগ না দখেি তাহলে আগামী বছর ঢাকা অচল করার মত র্কমসূচী আমরা দয়োর জন্য প্রস্তুত হচ্ছ।ি“


আরো দেখুন: যুক্তিতেই মুক্তি – সায়লা শবনম রিচি


রচনা ও সম্পাদনা

কিশোর চন্দ্র বালা
সভাপতি
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
সরকারি ব্রজমোহন কলেজ সংসদ,বরিশাল।

আমরা আছি ফেসবুকেও। আমাদের পেজটি লাইক দিন এই লিংক থেকে।

Check Also

জীবনানন্দ’র সাথে দেখা - কিশোর চন্দ্র বালা

জীবনানন্দ’র সাথে দেখা – কিশোর চন্দ্র বালা

জীবনানন্দ’র সাথে দেখা – কিশোর চন্দ্র বালা প্রতিদিনের অভ্যাস দিনের কর্মব্যস্ততার শেষে শরীর যখন বিছানার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *