এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা
এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা করার সহজ উপায়

এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা করার সহজ উপায়

এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা করার সহজ উপায়। প্রাচীনকাল থেকেই অ্যালোভেরা ঔষধি গুণাগুণে পরিচিত। এর ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো নানা উপকারী যৌগ ত্বক ও চুলের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।

উপকারিতা:

গ্রীষ্মকালে অ্যালোভেরা ত্বকে খুব ভালো কাজ করে কারণ এর ৯৮ শতাংশই পানি।

অ্যালোভেরা ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল’, ‘অ্যান্টিসেপ্টিক’, ‘অ্যান্টি ইনফ্লামাটরি’, ‘অ্যান্টি অক্সিডাইজিং’, ‘অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল’ ও ‘অ্যাস্ট্রিজেন্ট’ সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা ব্যবহারে চোখের চারপাশের কালো দাগ, ব্রণের দাগ, বলিরেখা ও বয়সের ছাপ দূর হয় এবং লোমকূপও সংকুচিত হয়।

অ্যালোভেরা ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও খুব ভালো কাজ করে।

ত্বককে উজ্জ্বল আর প্রাকৃতিকভাবে লাবণ্যময় করে তুলতে অ্যালোভেরার ব্যবহার শুরু করতে পারেন। বাজারে অ্যালোভেরার স্টেম পাওয়া যায়। আপনারা চাইলে সেগুলো কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা বেশ কার্যকর। যেমন যাঁদের চুল খুব শুষ্ক এবং মাথার ত্বকে অ্যালার্জি বা চুলকানি দেখা দেয়, তাঁরা এটি ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

►► রোজার মাসের ডায়েট চার্ট 
►► রমজানে ও গরমে ত্বকের যত্ন

এমনকি চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর। সে জন্য অ্যালোভেরার রসের সঙ্গে আমলকীর রস মিশিয়ে নিয়মিত চুলে লাগাতে হবে।

ত্বকের যত্নেও অ্যালোভেরার জেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। ত্বকের র‌্যাশ, চুলকানি, রোদে পড়া দাগ দূর করতেও অ্যালোভেরা অতুলনীয়।

আরো পড়ুন:  ডায়রিয়া হলে করণীয় কি?

সতর্কতা: ক্ষত বা আক্রান্ত স্থানে অ্যালোভেরার জেল ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে সংক্রমণ ও এমনকি প্রদাহ বাড়তে পারে।

অ্যালোভেরা ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো উপায় হল পাতার তাজা জেল ব্যবহার করা।

কী কী করতে পারে এই অ্যালোভেরা?

  • একনে বা পিম্পল দূর করে।
  • পায়ের গোড়ালি ফাঁটা কমায়।
  • সান বার্ন দূর করে।
  • ত্বকে বলিরেখা রোধ করে।
  • ত্বকের যৌবন ধরে রাখে।
  • ত্বককে সজীব রাখে।
  • চুলের বৃদ্ধি ঘটায়।
  • মেকআপ উঠাতে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা

আমি আমার কৈশোর বয়স থেকে এই বিশ্বাস করেছি। আমার মনে আছে যখন আম্মু আমাদের বাড়ির বাগান থেকে অ্যালোভেরার পাতা তোলেন এবং আমার ব্রণ এবং ব্রণগুলিতে তাজা জেল লাগান।

এখন প্রায় ২০ বছর বয়সে, আমি আমার বিস্তৃত সিরামগুলি ব্র্যান্ডেড অ্যালোভেরা জেল দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছি। এটি ত্বককে পুষ্টি দেয় এবং উজ্জ্বল করে।

কিন্তু আজ আমি এই বিস্ময়কর উপাদানটির প্রশংসা করিনি, বরং আমি এর সাথে কিছু পরীক্ষা -নিরীক্ষাও করেছি।

যখন আমার ত্বক শুষ্ক এবং নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল, এই অ্যালোভেরা জেল ফেস মাস্ক আমাকে বাঁচিয়েছিল।

তখনই আমি সত্যিই এই উদ্ভিদটির প্রেমে পড়েছিলাম এবং এর সীমাহীন গুণ আবিষ্কার করেছি।

অ্যালোভেরা জেলের সাথে লেবুর রসের সংমিশ্রণ আশ্চর্যজনক ফলাফল দেয়। ২০ বছর বয়সে, আমার তৈলাক্ত ত্বক ব্রণ থেকে মুক্তি পেয়েছে।

এটি তৈলাক্ত ত্বক থেকে মিশ্র ত্বকে পরিবর্তিত হয়েছে। এক্সফোলিয়েন্টস যা আমার ত্বককে উজ্জ্বল করে।

আরো পড়ুন:  চুল পড়া বন্ধ করার খাবার ও নতুন চুল গজানোর উপায়

তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি এই দুটি উপাদান দিয়ে আমার ত্বককে চাঙ্গা করব।

এলোভেরা এবং মাটিঃ

বাটি মুলতানি মাটির সাথে পরিমাণ মতো এলোভেরা জেল ও কয়েক ফোটা গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট আকারে এক প্রকার উপাদান তৈরি হয়।

যা মুখে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

এলোভেরা এবং শসাঃ

পরিমাণ মতো এলোভেরার সাথে ১ চা চামচ শসার রস।

দুটি উপাদান একত্রে করলে যে উপাদান তৈরি হয় সেটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে মুখের ময়লা দূর করা সম্ভব হয়।

এলোভেরা এবং মধুঃ

এলোভেরার সাথে মধু মিশিয়ে এক ধরনের ফেস মাস্ক তৈরি করা হয়।

যা ত্বকের তেল তেলে ভাব কমাতে সহায়তা করে । ফলে ত্বক সুন্দর হয়।

এলোভেরা ও লেবুঃ

যাদের স্কিন শুকনো তাদের জন্য এই ফেসিয়াল একেবারে উপযুক্ত।

আগেই বলেছি এলোভেরায় রয়েছে অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট যা ব্রণ দূর করতে সহায়তা করে।

এলোভেরা এবং নিমপাতাঃ

পরিমাণ মতো এলোভেরার সাথে কয়েক ফোটা নিম পাতার রস নিয়ে এক প্রকার ফেস ওয়াস তৈরী করা হয়।

যা স্কিনের শুস্কতা দূর করতে সহায়তা করে।

►► এলাচের অবিশ্বাস্য উপকারিতা
►► নিয়মিত বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা কিভাবে লাগাবেন?

প্রতি রাতে আমি আমার মুখ পরিষ্কার করতাম এবং এটি একটি পাতলা লেয়ার ফেস-মাস্ক হিসাবে প্রয়োগ করতাম। যা প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মুখে রাখতে হবে।

আরো পড়ুন:  নিয়মিত বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

তারপরে আমি আমার মুখটি জল দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজ করতাম।

অ্যালোভেরা চাষ পদ্ধতি

এটি চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা প্রয়োজন পড়ে না। খুবই অল্প এবং সীমিত জায়গার মধ্যে একটি শ্বাস সম্পূর্ণ করা সম্ভব। বাড়ির ছাদ অথবা টপ এর মাধ্যমে আপনি এটি চাষ করতে পারবেন এবং এটির ব্যবহার যদি আপনি ইতিমধ্যে জেনে থাকেন তাহলে এটির ব্যবহার আপনি করতে পারেন।

শুধু ব্যবহারই নয় আপনি এটি ব্যবহারের ফলে যে উপকার গুলো পাবেন সেগুলো সম্পর্কে ইতি মধ্যে আলোচনা করা হয়েছে আপনি আশা করি সেগুলো পড়েছেন।

অ্যালোভেরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কাজে উপকার করে আমাদের ত্বক ফর্সা থেকে শুরু করে আমাদের অনেক ঔষধ এর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এটি আকারে খুবই ছোট হয়ে থাকে এবং এর কার্যকরী ঔষধ টুকু অনেক বেশি উপকারী তা দিয়ে থাকবে আপনাকে।

►► ডায়রিয়া হলে করণীয় কি?
►► টাক সমস্যার সমাধান

শেষ কথা

অ্যালোভেরা সম্পর্কিত তথ্য গুলো আপনার ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন এবং কোন ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। স্বাস্থ্যসম্মত অন্য অনেক আর্টিকেল আমাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে সেগুলো আপনি চাইলে পড়তে পারেন।

অনুগ্রহ করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।  আমাদের ফেসবুক পেইজ এ লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন

Check Also

শ্বাসকষ্ট হলে করণীয়

শ্বাসকষ্ট হলে করণীয় কী?

সর্দি-কাশি হলে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আবার বর্তমানে করোনাকালীন প্রায় সব রোগীর মুখেই শোনা যায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.