দুনিয়াতে জাহান্নামী ও জান্নাতি লোক চেনার উপায়

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। আপনার নিজের মধ্যে পাঁচটি আলামত দেখলে বুঝবেন আপনি জাহান্নামের দিকে যাচ্ছেন‌ নাকি জান্নাতের দিকে যাচ্ছেন।

আর ৫ (পাঁচটি) টি আলামত দেখলেই বুঝবেন আপনি জান্নাতের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। দুনিয়াতেই জাহান্নামী ও জান্নাতি লোক চেনার উপায় সমূহ।

সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী, হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে আমরা হাদিস’টি পেয়েছি।

এবং তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি যা বলেছেন তা আজকে আমি আপনাদেরকে জানাবো।

[ads1]

তিনি বলেছিলেন ৫ (পাঁচ)’টি বিষয় যদিও উপলব্ধি করেন, বুঝবেন আপনি জাহান্নামের পথে যাচ্ছেন।

আবার ৫ (পাঁচ)’টি বিষয় যখন আপনার নিজের মধ্যে উপলব্ধি করবেন এবং আপনি আপনার নিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখবেন, তখন বুঝবেন আপনি জান্নাতের দিকে যাচ্ছেন।

জান্নাতি লোক চেনার উপায় প্রথম আলামত, চেহারার লাবণ্যতা কমে যাওয়া

ধরেন আপনি অনেক সুন্দর একটি মানুষ, কিন্তু অত্যাধিক পরিমাণে পাপ কাজের কারণেই আপনার চেহারা নূর / সুন্দর্য কমে যায়।

যদিও গায়ের রং ফর্সা, কিন্তু আপনার চেহারায় একটা বদ লোক এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

সৌন্দর্য এমন ভাবে কমে যায়, যে কোন লোক দূর থেকে দেখেই বুঝে ফেলে যে ব্যক্তি একজন পাপী।

আবার দেখবেন অনেক ব্যক্তি আছে গায়ের রং কুচকুচে, অথচ নেক আমলের কারণে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং আজুর কারণে,

মানুষের সাথে সদাচরণ করার কারণে, সত্যবাদিতার কারণে সে ব্যক্তির চেহারায় এমন একটি নূর চমকায় যে কারণে কুচকুচে কালো রঙ্গের চামড়ার উপরে ও তার নূরানী হাসি মানুষকে মুগ্ধ করে। তাকে সুন্দর মানুষের চাইতেও বেশি সুন্দর লাগে।

[ads1]

তার মানে বোঝা গেল, যদি কোন ব্যক্তি ভূল আমল করে তাহলে সে ব্যক্তির সৌন্দর্য, তার নূরানী চেহারা আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে। চেহারার লাবণ্যতা এবং সৌন্দর্য কমে যায়।

তাই কখনো যদি কোন কাজ করার পর আপনি বুঝতে না পারেন যে, আপনি গুনাহ করছেন, নাকি আপনি নেক কাজ করছেন।

তখন আপনি নিজের দিকে তাকান! আস্তে আস্তে টের পেয়ে যাবেন, আদতে আপনি কি করছে।

মানুষের অন্তর অধিকাংশ সময়ই বলে দেয় যে সে কি সঠিক পথে আছে নাকি ভুল পথে আছে।

আরো পড়ুন: মাসিক নিয়মিত না হলে যা করণীয়
আরো পড়ুন: পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায়

[ads1]

দ্বিতীয় আলামত হল অন্তর কালো হয়ে যাওয়া

অন্তর কালো হয়ে যাওয়া মানেই সে ব্যক্তি প্রায় সময় চিন্তা পেরেশানিতে থাকবে, দুশ্চিন্তা পেরেশানি তাকে ঘিরে ফেলবে,

ঠিক মত নামাজ-কালাম করবে না, কোন এবাদতের দিকে তার মন চাইবে না, একেই বলে অন্তর কালো হয়ে যাওয়া।

বেশিরভাগ সময়ে গুনাহের কাজ করবে, নেকের কাজ খুব কম করবে, এটা হল একজন খারাপ লোকের দ্বিতীয় নম্বর আলামত।

অথবা বলতে পারেন এটা একজন নেককার লোকের খারাপ দিকে যাওয়ার একটা আলামত।

অর্থাৎ লোকটি ধীরে ধীরে তার আমলনামা কে ভালো থেকে মন্দের ডাইভার্ট করে ফেলছে। আর এই লক্ষণগুলি বলছে যে, লোকটা অধিক মাত্রায় সব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে।

কারণ যার দিলে আল্লাহপাকের নূর থাকে তাকে দুশ্চিন্তা এবং প্রেসানি কখনো অ্যাটাক করতে পারেনা। এটাই জান্নাতি লোক চেনার উপায়।

[ads1]

তৃতীয় আলামত, দৌহিক শক্তি কমে যাওয়া

শরীরে কোন শক্তি থাকবে না, এ শক্তি দ্বারা বোঝানো হয়েছে দিনি কাজের শক্তি।

মানে আপনি ঠিক মত নামাজ-কালাম করবেন না, এবং অনেক মানুষ আপনাকে ভালো কাজের দিকে দাওয়াত করবে এবং নামায রোযার দিকে দাওয়াত করবে,

কিন্তু আপনি বড়লোক হওয়ার কারণে সেই নামাজের দিকে যাওয়া অথবা নেক কাজ করার জন্য আপনি কোন শক্তি পাবেন না।

আপনি দ্বীনি কাজে সবার চেয়ে পেছনে থাকবেন। হয়তো আপনার অর্থ সম্পদের পাহাড় থাকতে পারে,

কিন্তু আপনি একজন খারাপ লোক হওয়ার কারণেই এই আলামত’টি আপনার মধ্যে প্রকাশ পাবে। আপনি রোজা, নামায, হজ এবং যাকাত এগুলোর ক্ষেত্রে আপনি সবার চেয়ে পিছিয়ে থাকবেন।

এটাই বুঝানো হয়েছে যে, একজন খারাপ লোকের দেহে শক্তি থাকবে না।

অথবা আপনি এভাবে বলতে পারেন যে, একজন জাহান্নামী ব্যক্তির দেহে কখনো দ্বীনি কাজের শক্তি থাকে না।

[ads1]

চতুর্থ আলামত, রিজিক সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া

দুনিয়াতে সে একের পর এক অভাব-অনটনের মধ্যে পড়তে থাকবে।

ধরে নিন সে ব্যক্তির অনেক টাকা পয়সা আছে, কিন্তু তাতে বরকত নেই। তার রিজিক সংকীর্ণ হয়ে গেছে।

কারণ ব্যাংকে এত কোটি টাকা থেকে লাভ কি, গ্যাস্ট্রিক সহ বিভিন্ন রোগের জন্য ডাক্তার নিষেধ করে দিয়েছে পছন্দের মজাদার খাবার গুলো আর খেতে পারবেনা।

ডায়াবেটিসের জন্য নিষেধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধির কারণ এই অনেক পছন্দের কর্মকাণ্ড করার ব্যপারে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

খাবারের ব্যাপারে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং অর্থ থাকলেই যে তার রিজিক হবে এমন ধারণা ভুল। মনে রাখবেন, স্বল্প অর্থে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ বরকত পেয়ে যায় এটা জান্নাতি লোক চেনার উপায়।

[ads1]

আরো পড়ুন: জীবনসঙ্গীর মধ্যে যেসব গুণ দেখে বিয়ে করবেন
আরো পড়ুন: মাসিকের সময় যে ৬টি কাজ করা উচিত নয়

পঞ্চম আলামত, মানুষ তাকে ঘৃণা করবে

একটু ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন। ধরুন এলাকার একজন খুব বড় মাপের মানুষ, কিন্তু কোন মানুষ তার কথা শুনেনা।

তাকে পছন্দ করে না। তাকে দেখতেও পারেন না। এমনকি সেই ব্যক্তির উপস্থিতি তাদের আতঙ্কের কারণ হয়।

আবার অনেকেই প্রকাশ্যে ভয়ের কারণে কিছু না বলেনা। কিন্তু মনে মনে গালি দিয়ে থাকে।

[ads1]

তাকে ঘৃণা করে, সব সময় তাকে অভিশপ্ত মানুষ এবং তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে।

মনে করে যে, এই লোকটা অত্যন্ত বিষাক্ত, হতে পারে সে একজন এলাকার বড় ধরনের মানুষ। এমনকি নেতৃত্বস্থানীয় কেউ হতে পারে।

এমনও রয়েছে যে এই সকল ব্যক্তি দেখলে মানুষ রাস্তা পাল্টে অন্য রাস্তায় চলে যায়, তাদের কাছেও ভিড়তে চায় না।

আপনার উপস্থিতি যদি আপনার ঘরের এবং বাইরের মানুষ কে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনার ভালোর পথে নেই।

আপনি ইস্তেগফার করুন, সরল এবং সঠিক পথে চলে আসুন।

আর যদি আপনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষ আপনাকে দেখে দূর থেকে সালাম দিতে থাকে, হাসিমুখে আপনার কুশল বিনিময় করে, আপনাকে সে মুসাফফা করে, আর আপনিও তাদের সাথে হাসিমুখে আচরণ করেন।

এবং আপনাকে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেখে এসে মিশতে চায়, কথা বলতে চায়, তাহলে বুঝে নেবেন অবশ্যই আপনি আল্লাহপাকের একজন নেককার বান্দাদের সরল সঠিক পথের ওপর পরিচালিত হচ্ছেন।

[ads1]

যেটাকে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন “اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ” অর্থাৎ সরল-সঠিক পথ, যে পথে আল্লাহ পাক তার নেককার বান্দাদের পরিচালিত করছেন।

প্রিয় দর্শক, যদি উপরোক্ত পাঁচটি জাহান্না’মি আলামত আপনার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়, তবে বেশি ইস্তেগফার করতে হবে।

তওবা অর্থ গুনাহ থেকে দূরে থাকা, এবং ইহ জগত থেকে দূরে সরে আল্লাহর স্মরণে ফিরে আসা।

আর ইস্তেগফার অর্থ হচ্ছে প্রভুর কাছে দুই হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়া। এবং প্রতিজ্ঞা করা।

মহান রব্বুল আলামীন পছন্দ করেন। তিনি জানান, তার বান্দা তওবা করুন। তিনি তো ক্ষমা করার জন্য বসে আছে।

এটাই ছিল আমাদের দুনিয়াতে জাহান্নামী ও জান্নাতি লোক চেনার উপায়

[ads1]

Leave a Comment