জীবনানন্দ’র সাথে দেখা – কিশোর চন্দ্র বালা

জীবনানন্দ’র সাথে দেখা – কিশোর চন্দ্র বালা প্রতিদিনের অভ্যাস দিনের কর্মব্যস্ততার শেষে শরীর যখন বিছানার দিকে ধায় তখন পল্লবের হাতে থাকে গল্প, কবিতা বা উপন্যাসের কোন বই। আজও তার সাথে রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতা, বিছানায় শুয়ে ঘুমের অপেক্ষায় বইপড়া তার চরিত্রগত আর ঘুমিয়ে পরলে বুকের উপরেরই থাকে বই।

ভোড় হতে না হতেই ঘুম ভেঙ্গে গেলে বেড়িয়ে পড়ে প্রকৃতি দর্শনে। নতুন বাজার হয়ে কিছুটা সামনে হেঁটে আসতেই পেছন থেকে কে যেন ডাকল’পল্লব দাঁড়াও ভাই।

সে দাঁড়ালো পিছনে ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
‘জীবন দা ভালো আছেন’! হ্যা আছি বইকি, তা এতো ভোড়ে চললে কোথায়? প্রশ্ন করলেন জীবনানন্দ।
অহ আচ্ছা পরিচয় করিয়ে দেই, জীবনানন্দ মানে আমাদের প্রকৃতির কবি।

জীবনানন্দ দাশ, পল্লব তাঁকে জীবন দা বলেই ডাকে। পল্লব এতক্ষণে যেন জ্ঞাণ ফিরে পেল সেতো ভেবেই অবাক তার জীবনদার সাথে তার দেখা হয়েছে। সে জীবনদাকে প্রনাম করে বলল, দাদা আজ তো আপনার সেই কবিতা সত্য হলো। জীবনানন্দ বললেন‘ কোনটা পল্লব’? কেন দাদা কুঁড়ি বছর পরইতো দেখা হলো। আমি তখন খুবি ছোট চার পাঁচ বছর বয়সের হবো হয়ত।

কীর্তনখোলার পাড়ে দাঁড়িয়ে আপনি পড়লেন কবিতাখানি আজও আমি ভুলিনি আর ভুলিনি বলেই বোধহয় সত্যি হলো সেই ভবিষ্যৎবানী ।

দাদা আজ তবে আরেকবার স্মৃতিচারণ করুণ সেই কবিতাখানি।
‘তখনতো কবিতাটা পুরো লেখা হয়নি ঠিকআছে আজ তাহলে তোমার জন্য পুনরায় স্মরণকরি যদি আজ হতে কুঁড়ি বছর পর তার সাথে দেখা হয়।

আবার কুঁড়ি বছর পরে
হয়তো ধানের ছড়ার পাশে
কার্তিকের মাসে-
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে –
তখন হলুদ নদী
নরম নরম হয় শর কাশ হোগলায় -মাঠের ভিতর !
অথবা নাইকো ধান ক্ষেত আর ব্যস্ততা -নাইকো আর
হাঁসের নাচের থেকে বড়
পাখির নীড়ের থেকে বড় ………………….হঠাৎ তোমারে ।

মোহাচ্ছন্ন হয়ে শুনছিলো পল্লব ,কবিতা শেষ হতেই হাততালি দিয়ে উঠল সে । মাথার উপর রোদ তপ্ত হয়েছে,বেলা বেড়ে যাচ্ছে ‘আজ কবে চলি পল্লব- আবার দেখা হবে, আবার আসিব ফিরে’- পল্লব আবারো প্রনাম করে বিদায় দিলো। সময় যেন বাতাসের আগে চলে যায়।

পল্লব একজন ইঞ্জিনিয়ার এতদিন বিদেশে ছিলো ফেবরুয়ারি ১০তরিখ দেশে ফিরেছে । দেশের মাটিতে পা রেখে বুক ভরে বাতাস নিতে চাইলো কিন্তু সে বাংলাদেশের বাতাস পেল না। এই বাতাসের সাথে তার চিরচেনা অমৃতসম বাতাসের কোন মিল নেই।

আজকের বাতাসে আমনের ঘ্রান নেই, ফুলের গন্ধ নেই তবে কি গত ছাব্বিস বছরে সব বদলে গেছে সে বিস্মিত হয়। বরিশালে পৌঁছে বাসায় ফেরার পথে রাস্তার পোস্টারে তার চোখ আটকে যায়, শতবর্ষী এক চিরচেনা মুখের ছবি সেই পোস্টারে ছাপানো ।

সরকারি ব্রজমোহন কলেজের উত্তরণ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন তার নামে মেলার আয়োজন করেছে! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলতেই পল্লব অনুভব করলো এইতো-এইতো তার সেই কাঙ্খিত বাতাস যে বাতাসে ধানের গন্ধ, মাছ আর ফুলের গন্ধ-যে বাতাসে চিত্ত জুরিয়ে যায়,এইতো সেই বাতাস।

কয়েকবার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে রইলো প্রিয়পরম বন্ধুর ছবির দিকে হঠাৎ তার দৃষ্টিতে ভেষে উঠলো সামনের রাস্তা দিয়ে যেন তার জীবনদা হেঁটে আসছে।


আরো পড়ুন: ৯ম-১০ম শ্রেণি: হিসাববিজ্ঞান ১ম অধ্যায়ের MCQ উত্তরসহ
আরো পড়ুন: ৯ম-১০ম শ্রেণি: কৃষিশিক্ষা ১ম অধ্যায়ের MCQ উত্তরসহ
আরো পড়ুন: লোভ – মুহাম্মদ আল মামুন
আরো পড়ুন: লাইফ ফোকাস পর্ব-৩
আরো পড়ুন: ১৯৫ টি গুরুত্বপূর্ন MCQ উত্তরসহ

আরো পড়ুন: paragraph: A Street Hawker (বাংলা অর্থসহ)
আরো পড়ুন: paragraph: Plysical Exercise(বাংলা অর্থসহ)
আরো পড়ুন: Paragraph: A Day Labourer (বাংলা অর্থসহ)
আরো পড়ুন: paragraph: May Day(বাংলা অর্থসহ)


সে জীবন দা বলে চিৎকার করে ডাক দিলো কিন্তু সে সাড়া পেল না এবার একটু সামনে দৌঁড়ে এসে ডাক দিলো জীবন দা ঘুরে তাকালো তার দিকে সে আরেকটু সামনে এগুতেই দেখল শতশত শালিক পাখি ঝাঁক বেঁধে রাস্তায় বসে ছিলো তার উপস্থিতিতে এখন পাখিরা ডানা মেলে আকাশে কাক, চিল, শালিক সবি আছে নেই শুধু জীবনদা-পল্লব হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

পাশের ঘর থেকে ছেলের কান্নার শব্দ পেয়ে দৌড়ে এলেন মিসেস পল্লবী ,কি হয়েছে বাবা তুই কাঁদছিস কেন? পল্লবের বুকের উপরে থাকা ‘শেষের কবিতা’ বইটা বিছানার উপর সরিয়ে রেখে ছেলেকে হাত ধরে টেনে তুললেন মিসেস পল্লবী – পল্লব তখনও কেঁদে চলেছে। পল্লবী তাকে শান্ত হবার জন্য জিজ্ঞেস করছে তার কান্নার কারন ,এখন পল্লব জেগে উঠেছে সে তার মাকে দেখে জানতে চাইলো রাস্তা থেকে সে কি করে এখানে এলো…………………….

লেখার নাম:

জীবনানন্দ’র সাথে দেখা – কিশোর চন্দ্র বালা

 

 

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুণ।

Leave a Comment