বিদ্রুপে বিদ্রোহের আগুন

নারী

নারী প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে নারী শোষিত হয়ে আসছে। ফলে শোষিত হতে হতেন এই অবস্থাকে নারীরা ও স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছে। এই কারণে নারীদের হীন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। নারীকে প্রথমে মানুষ ভাবতে হবে। এ জন্য চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বন্ধের সংগ্রাম করেন।

১৮৫৫ সালে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের পক্ষে বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করেন। এ কথা বলা যে, ” রাজা রামমোহন রায় নারীদের দিতে চেয়েছিলেন প্রাণ আর বিদ্যাসাগর দিতে চেয়েছিলেন জীবন”। ভারতীয় উপমহাদেশে নারীমুক্তির আরেক মহীয়সী হচ্ছে বেগম রকেয়া। তিনি “আমাদের অবনতি”এবং “মতিচূর”- এ নারী শোষণের বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।

তাই কেউ নারী হয়ে জন্ম নেয় না,ক্রমশ কোন সে নারী হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শত সংগ্রাম করে যাচ্ছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সর্বত্র। একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগছে,কী উন্নয়নশীল বা তথাকথিত অতিসভ্য পাশ্চাত্যের দেশে ও নারীকে অনেক বেশি ভোগপণ্য হিসেবে বিবেচনা করে করা যাচ্ছে।

এই উপমহাদেশে শত শত বছর যাবৎ নারীকে অন্দরমহলের বাসিন্দা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। “মহল”থেকে মহিলা শব্দের উৎপত্তি এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীরা কখনো কখনো মহলের বাইরে কোন মানুষ তাদের দেখতে পেয়েছে এমন ঘটনা বিরল।

আজ সময়ের প্রয়োজনে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এক বিংশ শতাব্দীর সভ্যতা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি কিন্তু, যে সমাজের নারী নিরাপদ পথ চলতে পারে না, কর্মস্থলে স্বস্তি বোধ করতে পারছে না, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিজে নিতে পারেনা, নিজের বিকাশ ও অগ্রযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ভাবতে পারছে না তাকে কতটা সভ্য বলা যায়?

এছাড়াও আরো কত কী যে ভাবতে হয় তা কেবল। জানেন শিক্ষিত কী অর্ধ শিক্ষিত বা অশিক্ষিত নারী সমাজ। এখন সবচেয়ে আলোচিত এবং চ্যালেঞ্জিং যে ক্ষেত্রগুলো রয়েছে তা দেশের কিংবা দেশের বাইরে আর তা হলো বিশ্বায়ন।

বিশ্বায়ন প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়নক বিষয় সমূহের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার একটি একক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়া। বিশ্বায়ন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সামনে অভূতপূর্ব সুযোগ-সম্ভাবনা এনে দিয়েছে দিয়েছে কোন ক্রম বর্ধমান বাণিজ্য, নতুন নতুন তথ্য প্রযুক্তি বিদেশি বিনিয়োগ, গণমাধ্যম ও ইন্টার নেট এর প্রসার ইত্যাদি যা বিশ্বায়নের জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।


আরো পড়ুন: গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তির উপায়
আরো পড়ুন: যৌন মিলন করার পূর্বে কি করবেন
আরো পড়ুন: ডায়েরির রহস্য!
আরো পড়ুন: জন্মভূমি – জায়েদ ইরফান


ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণের সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। তেমনি এর বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাই বিশ্বায়নের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিকই রয়েছে। একদিকে নতুন নতুন এবং কল্যাণকর উদ্ভাবনী যেমন লক্ষ করা যায় তেমনি লক্ষ্য করা যায় মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।

কারণ উন্নত দেশগুলোর প্রতিযোগিতা যে ভাবে টিকে আছে, এবং অভিভাবকের চ্যালেঞ্জটি উন্নয়নশীল দেশ কে নিয়ন্ত্রন করছে।,তাতে নারীরাও প্রতারিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যে বিশেষ করে গ্রামীণ নারী সমাজে নারীর উপর বিশ্বায়নের প্রভাব সমান নয় এবং এ বিষয় নিয়ে উন্নত বিশ্বের মাথাব্যথাও নেই।

টুনু কর্মকার
অধ্যাপক – রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *