যুক্তিতেই মুক্তি – সায়লা শবনম রিচি

বিতর্ক মুলত একটি বাচিক শিল্প যার সুচনা ঠিক কবে হয়েছিল তা বলা কঠিন। তবে বলা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮৯ অব্দে প্রাচিন গ্রিসের নগররাষ্ট্র গুলো থেকে বিতর্কের প্রাতিষ্ঠানিকতা শুরু হয়।অপরদিকে বাংলাদেশে বিতর্কের সূচনা খুব বেশী পুরনো নয়। বর্তমানে আমাদের দেশে বিতর্ক একটি নতুন রুপ লাভ করেছে। বাংলা সংস্কৃতিতে বিতর্ক একটি নতুন সংযোজিত বিষয়।


আরো পড়ুণ: Composition: The Season I Like Best/the Rainy Season In Bangladesh (বাংলা অর্থসহ)

আরো দেখুণ: করোনা VS পতিতা


১৯৮৯ সালের ২৫’শ মে, কেন্দ্রীয় বিতর্ক আন্দোলন নামে বিতার্কিকদের একটি সংগঠন প্রথম বারের মতো বিতর্কের আয়োজন করে। মুলত মানুষ প্রতিনিয়তই তর্ক করে থাকে তার আসে পাশের মানুষদের সাথে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে।যখন সেই তর্ক হবে যুক্তির মাধ্যমে, সেটিকে বিতর্ক বলা হয়।

কারন যুক্তি হল কথাকে শ্রুতিগম্য করার একটি অন্যতম উপায়। আর তাই যুক্তিকে বিতর্কের প্রান বলা হয়। আর যখন যুক্তি দিয়ে কাউকে কিছু বোঝানো হয় তখন সেটি আরো সহজ, সুন্দর আর বোধগোম্য হয়ে ওঠে।বর্তমান সমাজে দেখা যায় অভিভাবকগন তাদের সন্তান এর পুঁথিগতবিদ্যার ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন হতে গিয়ে তাকে কিভাবে মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় সেটা ভুলে যায়। যার ফলে দেখা যায় পুঁথিগতবিদ্যায় কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী পারদর্শী হলেও সেটিকে কারো সামনে তুলে ধরার ক্ষমতা না থাকায় সে মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

আর এটি তার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। এভাবে অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে গ্রহনযোগ্য কথা না বলতে পারায় অনেকেই মৌখিক ক্ষেত্রগুলোয় ব্যর্থ হয়।তাই সবার উচিত এই বাচিক শিল্প চর্চা করা। বিতর্ক করার মাধ্যমে একজন মানুষ হয়ে ওঠে একজন আত্ববিশ্বাসি, আত্মপ্রত্যয়ি, সফল ও গ্রহনযোগ্য মানুষ।বর্তমানে বিতর্ক চর্চার অনেক সংগঠন রয়েছে যার মাধ্যমে যে কেউ এখন বিতর্ক চর্চা করতে পারে।আমরা আশা রাখি যে আমাদের প্রজন্ম শুধুমাত্র পুঁথিগতবিদ্যায় পারদর্শী না হয়ে নিজেকে বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে গ্রহনযোগ্য করে তুলবে। সুশিল কথার প্রান যুক্তি আর যুক্তি থেকে আসে বিতর্ক।

 

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলেও এখানে ক্লিক করুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *