লাইফ ফোকাস পর্ব-৩

লাইফ ফোকাস পর্ব-৩ সময় ২০১৩ সাল। ঢাবি থেকে বিবিএ শেষ করে আমার পূর্বের প্রতিজ্ঞা মোতাবেক এমবিএ না করেই ঢাবির জীবনের ইতি টানলাম। বলে রাখা ভালো আমার ব্যাচ থেকে কেবল আমি এমন ডিসিশন নিয়েছিলাম বাকি প্রায় সবাই ঢাবিতে বিবিএ করে এমবিএ করেছিল।

শুরু হলো চাকরি খোঁজ করার কঠোর পরিশ্রম!!
অনেকেই পরামর্শ দিলেন সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করতে কিন্তু ব্যবসায় প্রশাসনের মতো ডাইনামিক বিষয়ে পড়াশোনা করে সরকারি চাকরির পিছনে দৌঁড়ানো আমার কাছে বরাবরই একটা অদ্ভুত বিষয় মনে হতো।

যাই হোক, চাকরির জন্য খোঁজ শুরু করলাম ২০১২ সালের মাঝামাঝি। প্রথমেই পছন্দ ছিল দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের বেশকিছু বহুজাতিক কোম্পানিতে আবেদন করলাম। ইন্টারভিউও দিলাম যথারীতি। অনেকেই জিজ্ঞেস করলেন এমবিএ না করে কেন এখন চাকরি কেন খোঁজ করছেন। কিন্তু আমি কোনোদিনই নিজের উপর বিশ্বাস হারাই নি।

চাকরির একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট থেকে ছয় মাসে প্রায় ২০০ এর মতো আবেদন করেছিলাম। সবই ঠিক ছিল কিন্তু ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য কেবল গুটিকয়েক কোম্পানি থেকেই ডাক পেয়েছিলাম। প্রথম পাঁচ মাস এক রকম হতাশার মধ্যেই গেলো। কিন্তু মনোবল অটুট ছিল আমার।
আয়ের বাড়তি উৎস হিসেবে বিবিএ থাকাকালীন সময় থেকেই আউটসোর্সিং এর কাজ করতাম। এ কাজ করা মোটেও সহজ ছিল না কারণ আমার কম্পিউটার ছিল পেন্টিয়াম ত্রি প্রসেসরের। আবার ইন্টারনেট লাইন ঢাকাতে ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেও ঢাকার বাইরে মডেম ব্যবহার করা লাগতো।

২০১২ এর শেষের দিকে একটি বহুজাতিক কোম্পানি থেকে ডাক আসলো। এই কোম্পানিটি ছিল আমাদের দেশের প্রথম বহুজাতিক কোম্পানি যা ব্রিটিশ পিরিয়ডে চালু করা হয়েছিল। এই কোম্পানির নাম ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেড। কোম্পানিটির দেশে সর্বাধিক পরিমান চায়ের বাগান রয়েছে তবে হেডকোয়ার্টার ঢাকায়। আমি মূলত তাদের ঢাকার বাইরের চা বাগানের যে অফিস তার পোস্টের জন্য আবেদন করেছিলাম।

এই কোম্পানির নিয়োগ পদ্ধতি ছিল চার স্তরের। প্রতিটি স্তরে ভালো করে শেষ করে শেষের স্তরে আমার ইন্টারভিউ ছিল কোম্পানির সিইওর সাথে।

সিইও আমার কথা শুনলেন এবং আমি উনাকে বললাম যে বাইরের বিসনেস স্কুল থেকে ফুল বৃত্তিতে এমবিএ করতে চাই। সিইও আমার ইন্টারভিউতে সন্তুষ্ট হলেন। তিনি সাথে সাথেই বললেন আমি তোমার ইন্টারভিউতে সন্তুষ্ট তবে আমি তোমাকে ঢাকার বাইরে যেত দিবো না।


আরো পড়ুন: বিষন্ন মহামারি – মুহা. আল মামুন আব্দুল্লাহ
আরো পড়ুন: আমারো ইচ্ছে করে – আল-মামুন
আরো পড়ুন: লাইফ ফোকাস পর্ব-2
আরো পড়ুন: ১৯০ টি গুরুত্বপূর্ন MCQ উত্তরসহ


তুমি ঢাকার হেডকোয়ার্টারে কাজ করবে। তোমার মতো যোগ্য মানুষের আমার কোম্পানির দরকার আছে।
একটি বিষয় আসলে যা উল্লেখ করার মতো তা হলো আমি বাগানের মানে ঢাকার বাইরের পোস্টের জন্য আবেদন করেছিলাম। ঢাকার হেডকোয়ার্টারের জন্য কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় নি। কিন্তু ওই কোম্পানির সিইও আমার ইন্টারভিউতে এতটাই সন্তুষ্ট হয়েছিলেন যে কেবল আমার জন্য ঢাকার হেডকোয়ার্টারে একটি বিশেষ পদ সৃষ্টি করা হলো এবং আমাকে নিয়োগ দেয়া হলো।

এই চাকরির জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ এর অধিক গ্রাডুয়েটদের সাথে আমাকে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছিল। আজ চাকরি ছাড়ার এত বছর পরও আমার বস মাঝেমাঝেই কল দিয়ে ইমেইল করে আমার খবর নেন। অফিসে আমার অধীনে যে পিওন ছিলেন উনি তো প্রায় প্রতিমাসেই ইমোতে কল করেন। বলেন যে স্যার আপনাকে আমরা মিস করি অফিসে।

আমার জীবনের প্রথম চাকরির অভিজ্ঞতটা এমনই। চেষ্টা করলে হয়। চেষ্টা করলে সফলতার সূর্য একদিন ধরা দিবেই। মা-বাবার সেবা-যত্ন করুন।  ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।আর অন্যায়কে সর্বদা না বলুন। একে অন্যের সাহায্য করুন।

নূর-আল-আহাদ
<Financial Engineer > Eccentric Economist > Futurist>
বিবিএ (ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা) ১৪ তম ব্যাচ
এমবিএ (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া)
মাস্টার অফ ইঞ্জিনিয়ারিং (ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, জাপান)
ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক (জাপান)
(Acquiring knowledge does not have a full-stop, rather it always has comma – Ahad)

 

 

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুণ।

Leave a Comment