লাইফ ফোকাস পর্ব-৪

লাইফ ফোকাস পর্ব-৪ আমার স্কুল এবং কলেজ জীবন আমার নিজের হোমটাউনে কেটেছে। এইচএসসি পাশের পর ঢাবিতে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আগমন। ঢাকা শহরের অনেকগুলো স্মৃতি আছে। ঢাকায় প্রথম আসার পর এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলাম। যাই হোক, আত্মীয়ের বাসার সুখ বেশিদিন কপালে জুটে নি। তাই আত্মীয়ের বাসা ছেড়ে উঠলাম সাব-লেট্ একটি বাসায়।

তবে এই সাব-লেট্ খুঁজে পেতে বেশ করে লোকের কথা শুনতে হয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালাদের কাছে ব্যাচেলর এবং ঢাবির ছাত্রের মতো এমন বালাই আর নেই। অনেক জায়গায়ও আরো কিছু অতিরিক্ত শুনতে হয়েছিল – যেমন মেয়ে বন্ধু আছে?

যখন বলতাম নেই, তখন বলতো এখন তো নেই, কিছুদিন পরে বাসায় এনে তুলবে। এই সাব-লেটের অভিজ্ঞতা আবার অনেক অন্যরকম।
সাব-লেট্ ভাইয়ার বৌ সবসময় চুলোয় একটি পাতিল বসিয়ে রাখতে পছন্দ করতেন। মানে উনার অভিপ্রায় ছিল একটা চুলাতেই আমার কাজ সারতে হবে।

আর বাড়ির মালিক ছিল হিটলারের মাসতুতো ভাই। উনি সকালে ৯ টার পর পানি আর দিতেন না আবার পানি দেয়া হতো রাত ৯ টার পর। তাই দুমাস পর আমাকে আবারো এই বাসাটি ছাড়তে হলো। এবার এলাকা পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় সাব-লেট্ নিলাম আবার। কথাবার্তা বলে সবই ভালো লাগলো।

নতুন বাসায় উঠার পর ২ মাস কেটে গেলো। তারপর হঠাৎ করে এদেরও আসল রূপ বের হতে লাগলো। এরা পারিবারিক কলহ তো করেই এবং করার পর রান্নাঘরও আটকে রাখে। বাধ্য হয়ে হোটেলে খেলাম বেশকিছু দিন। কিন্তু এই ভাবে তো আর চলে না তাই নতুন করে আবারও বাসা খুঁজতে লাগলাম।

এবার উঠলাম রুম সিঙ্গেল কিন্তু রান্নাঘর আর টয়লেট বাড়িওয়ালাদের সাথে এমন বাসায়। এখানের বাড়িওয়ালা খালাতো বাকিদের তুলনায় আরো এগিয়ে মনে হলো। যেমন উনি উনার বুয়া ছাড়া অন্য কোনো বুয়ার হাতে কাজ করতে দিতেন না, তারপর টয়লেট ছিল দুটি আমার আর বাড়িওয়ালাদের পাশাপাশি।

তো আমার টয়লেটে ছিল না বাতি, কারণ উনি বাতির ব্যবস্থা রাখেন নি। উনার মতে পাশেই তো আমাদের টয়লেট ঐটার বাতি সবসময় চালু থাকে আর টয়লেট ব্যবহারে বাতি লাগে না। এই বাসায়ও ৪ মাস থাকার পর উঠলাম একটি ফ্লাট বাসায় দুই বন্ধুর সাথে। দেশ ছাড়া আগে পর্যন্ত ওই বাসায় ছিলাম।

এই বাসায় বাড়িওয়ালা নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না কিন্তু একটাই সমস্যা ছিল যা ছিল পাশের ২ ফ্ল্যাটের লোকজন আমাদের তাদের হবু জামাতা করার নিয়ত করে রেখেছিলেন। যদিও তাদের সেই সুযোগ কোনোদিনই দেই নি আমরা। জীবনে এত কিছু চলার পরও কিন্তু আমি নিয়মিত ক্লাস করতাম, আর সকালের ক্লাসগুলোতে সবার আগে যেতাম।

অনেক সময় তো আমি গিয়ে দেখতাম ক্লাসরুম তখনও বন্ধ এমনকি অনেকদিন অনুষদের গেটও বন্ধ পেয়েছি। ফ্যাকাল্টির গেটে থাকা মামা আমাকে দেখে বলতেন কি রাতে ঘুমান না নাকি !!
ঢাকা শহরে থাকার অভিপ্রায় আমার কোনোদিন ছিল না, আজও নেই।


আরো পড়ুন: লাইফ ফোকাস পর্ব-৩
আরো পড়ুন: Paragraph: A Day Labourer (বাংলা অর্থসহ)
আরো পড়ুন: Composition: Tree Plantation/The Importance of Tree Plantation(বাংলা অর্থসহ)
আরো পড়ুন: Composition: The Season I Like Best/the Rainy Season In Bangladesh (বাংলা অর্থসহ)
আরো পড়ুন: জীবনানন্দ’র সাথে দেখা – কিশোর চন্দ্র বালা
আরো পড়ুন: ১৯০ টি গুরুত্বপূর্ন MCQ উত্তরসহ


কিন্তু একটা কথা বলতেই হয়, শহরটি অনেক বড় হতে পারে, শহরে অনেক মানুষ থাকতে পারে, আকাশচুম্বী দালান থাকতে পারে, কিন্তু অনেকেরই মন অনেক অনেক নিচুতে পরে আছে ওই শহরে।

মা-বাবার সেবা-যত্ন করুন। ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন। আর অন্যায়কে সর্বদা না বলুন। একে অন্যের সাহায্য করুন।
নূর-আল-আহাদ

<Financial Engineer > Eccentric Economist > Futurist>
বিবিএ (ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা) ১৪ তম ব্যাচ
এমবিএ (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া)
মাস্টার অফ ইঞ্জিনিয়ারিং (ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, জাপান)
ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক (জাপান)
(Acquiring knowledge does not have a full-stop, rather it always has comma – Ahad)

 

 

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুণ।

 

বি: দ্র: লাইফ ফোকাস পর্ব-৪ এর লেখকের মত আপনার জীবনের লক্ষ্যের গল্পও শেয়ার করতে পারেন আমাদের (লিসোনারি) সাথে।

Leave a Comment