সেহরি ইফতারের দোয়া বাংলা এবং আরবিতে

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।  প্রিয় দর্শক,  আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব সেহরি ইফতারের দোয়া এবং কি কি করনীয় কি বর্জনীয় সে সকল বিষয়গুলো নিয়ে। আজকের এই আর্টিকেলের রয়েছে বাংলা, ইংরেজি এবং আরবিতে উচ্চারণ সহ সব পদ্ধতি সমূহ। আমরা সবাই জানি রোজা আমাদের জন্য ফরজ তাই অনুরূপভাবে রোজার নিয়ত রোজার কার্যক্রম সবকিছু আমাদের জানা জরুরী।

[ads1]

সেহরি ইফতারের দোয়া পাশাপাশি অন্য কাজ

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন রোজা আমার জন্য ফরয করে দিয়েছেন।  শুধু রোজা রাখলে এই আমাদের রোজা পালন হবে না রোজা রাখার পাশাপাশি অন্যান্য উপাদান গুলো রয়েছে সেগুলো আমাকে পালন করতে হবে।  যেমন-  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করতে হবে,  যাতে রোজা মাকরুহ না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে,  রোজা রেখে কারো ক্ষতি করা,  কাউকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি দেওয়া,  রোজা রেখে অন্যের ক্ষতি চাও তাই এগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

►► আরো পড়ুন: ২০টি দুর্বল ঈমানের লক্ষণ সম্পর্কে জানুন!
►► আরো পড়ুন: দুনিয়াতে জাহান্নামী ও জান্নাতি লোক চেনার উপায়

[ads1]

রোজা এমন একটি ইবাদাত যা কেবলমাত্র বছরে একবার এসে থাকে তাই এই একবারে আপনি যত ইবাদত করবেন তার কয়েক গুণ বেশি ইবাদত আপনার আমলনামায় লেখা হয়ে থাকে।  আপনার আমলনামা ভারী করতে রোজার মাসের বিকল্প কিছুই নেই।  সারাদিন উপোস করে ইফতার করলাম আমার রোজা কবুল হলো না তাহলে এই রোজার কোন মূল্যই থাকল না আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। 

সেহরি ইফতারের দোয়া বাংলা এবং আরবিতে চলুন জেনে নেই –

[ads1]

ইফতারের আগে যে দোয়া পড়তে হয়

“بسم الله الله لاكا سومطرة ، وعلاء رزقكا أفتارتو” “Bismillahi Allahumma laka sumatu, wa ala rizbika aftbartu”

উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু।’

[ads1]

অর্থ: ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত)

ইফতারের সময় যে দোয়া পড়তে হয়

“الله لاكا شومتو على رزبيقة وافتارتو برماتيكا يا ارهمار رحيمين”

“Allahumma laka chumtu wa ala rizqbiqa wa aftartu birahmatika ya arhamar rahimin”

[ads1]

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।” অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি।

ইফতারের পর যে দোয়া পড়তে হয়

[ads1]

“حطام سفينة؛ وابتالاتيل أوروكو وشبطال الاجر إن شاء الله”

“Shipwreck; Wabtallatil Uruku; Wa chabatal ajhar inshaAllah”

উচ্চারণ: ‘জাহাবাজ যামাউ; ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝর ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ: ‘(ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো।’ (আবু দাউদ, মিশকাত) (দৈনিক ইত্তেফাক থেকে সংগৃহীত)

[ads1]

সেহরির দোয়া ও রোজার নিয়ত

রোজা ফারসি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে দিন। যেহেতু এই আমলটি দিনের শুরু থেকে শেষাংশ পর্যন্ত পালন করা হয় তাই একে রোজা বলা হয়। আর আরবিতে এর নাম সাওম বা সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়।

[ads1]

রমজানের রোজার জন্য সুবহে সাদিকের পূর্বে মনে মনে এই নিয়ত করবেনঃ“نويت ان اصوم غدا من شهر رمضان المبارك فرضا لك ياالله فتقبل منى انك انت السميع العليم”

“Nawaitu an asumma gadam min shahri ramazanal mubaraki fardallaka, ya allahu fatakabbal minni innika antas samiul alim”

নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলায় নিয়তঃ হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

[ads1]

►► আরো পড়ুন: ২০টি দুর্বল ঈমানের লক্ষণ সম্পর্কে জানুন!
►► আরো পড়ুন: দুনিয়াতে জাহান্নামী ও জান্নাতি লোক চেনার উপায়

সেহরির সময় সম্পর্কে হাদিস

হযরত সাহল ইবনে সা’দ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আর তোমরা “খাও এবং পান কর যে পর্যন্ত না কাল রেখা দূর হয়ে সাদা রেখা স্পষ্ট হয়”। (আয়াতটি) নাযিল হলো তখনও ”ফজরের” কথাটি নাযিল হয় নি। এমতাবস্থায় লোকেরা রোযা রাখতে চাইলে প্রত্যেকেই দু’পায়ে সাদা ও কাল সুতা বেঁধে নিত এবং (সেহরির সময়) সাদা ও কাল বর্ণ স্পষ্ট দেখা না যাওয়া পর্যন্ত পানাহার করত। পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তা’য়ালা “ফজরের” কথাটি নাযিল করলেন। তখন সকলেই জানতে পারল যে, সাদা ও কাল রেখার অর্থ হল রাত (এর অন্ধকার) ও দিন (এর আলো)। সহীহ বোখারী শরিফ।

[ads1]

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ ৭টি;

  • স্ত্রী সহবাস করা
  • পানাহার করা
  • এমন কিছু যা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত
  • ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা
  • মহিলাদের হায়েয ও নিফাসের কারণে রক্ত বের হওয়া
  • হস্তমৈথুন করা
  • শিঙ্গা লাগানো বা এমন জাতীয় কোন কাজ করার কারণে রক্ত বের করা
[ads1]

Leave a Comment