নিকৃষ্ট বাঙালী সমাজ
নিকৃষ্ট বাঙালী সমাজ

হুকুম – মোঃ ইমন খন্দকার হৃদয়

সকালের রোদে, উঠানে বসিয়া গায়ে তাপ দহনে ছিল রোদের প্রস্ফুটন। চারদিকে যেন নীরব, তেমন শব্দ আসে না।নদীর ধারে থেকে স্রোতের আওয়াজ আসে, অল্প অল্প।

ওদিকে ” কাহার বাড়ি’র” গোপালের বউ কে নাকি পাক- সেপাই রা ধরে নিয়ে বহুত দিন রেখে দিয়েছিল, তাহাদিক হাত,পা ধরিয়া বাচিঁয়া আইছে, কিন্তু ইজ্জত টি আর বাচিঁয়া রাখিতে পারলো না।

আজ তারা সনাতন বলে তাহাদের উপর বেশ জুলুম করছে।তাদের বাড়ি -ঘর,লুণ্ঠন সহ পুড়িয়া দিয়েছে শশ্মান এর আগুনের মত।

এই কেদারাপুরে সকল হিন্দুদের ঘর ও ভিটামাটি র অবকাশ নাই আর।ওই যে মাছ যেমন মারে,সেই রকম ভাবে তাহাদিগ কে মারতে আছে।কাহারো জীবন পশুর মত লইয়া গেছে।

নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠন করিয়া ত্যাগ করিয়া দেয়।কত হিন্দু পরিবার ভারতে নাকি যাইতে আছে।

এই দেশে মুসলমান থাকলেও তাদের ওপর অত্যাচার কম হচ্ছে কিন্তু সনাতন দের ঠাই পাওয়াই দায়।

কেদারাপুরে সকল সনাতন পরিবার পালিয়ে যাচ্ছে।অনেক কে গুলি করে ‘ ভৈরবী ‘ নদীতে ফেলে দিচ্ছে।

এখন নাকি পাক- সেপাই র দল এদিক নাকি আসতে আছে,এটা শুনিয়া সবাই সংকুচিত, অনেকে আবার মাটির ভিতর নাকি আশ্রয় নিবে,তাহাও ভাবিয়া আলোচিত।

গোপালের কাজ নাই ৭ মাস ভারতে যাবে কিভাবে ছেলে মেয়ে আর ইজ্জতহারা বউ টা লইয়া বড় ই চিহ্নিত।

এই এলাকায় রাজাকার কম তাই খোজ ও কম।নদীর ধারে নির্জন এক ” মোল্লা বাড়ি” ওখানে মৌলভী আজিজ হক তার গোত্র লইয়া থাকে।

সে মৌলভী মানুষ হলেও পাকিস্তানিদের পক্ষে নয়।

হুকুম

সে নিজেকে খাটিঁ বাঙালী দাবি করে,রণাঙ্গনে সে অনেক সাহায্য করে।

গোপালের এই অবস্থা দেখিয়া তাহার বাড়িতে আশ্রয় দিলো।

গোপালের মনে ভয় ছিল,” পাক- সেপাই গো ধারে মোগো ধরাইয়া দিব নাতো?”।

কিন্তু কয়েক দিন থাকার পরে সেই চিন্তা আর নাই। পৌষ এর শীত বাড়ির দুই কচি নাতী মৌলভী’র জয়নাল, শারমিন ওরা রোদ পোহাচ্ছে, ঘর দিয়া বের হয়না নদীতে শুধুই রক্ত ভেসে যায়।

ওরা তাই ভয়ে যায় না কোথাও,ওদের বাপ মতিন। সে যুদ্ধরত আছে এই নয়মাস।

ওদের দিক আসিয়া বসিল, গোপালের দুই ছেলে, মেয়ে। ওদিকের বেল গাছটি বড় ই শুষ্কতম।

আগের মত আর খেলাধুলা হয় না বা আড্ডা। আজ নাকি ওদের পাঠশালা র শিক্ষক ‘ ফয়েজ মিয়া’ আসিবেন।

দেশের এই পরিস্থিতির কারনে পাঠশালা বন্ধ ৮ মাস।সারাদিন যদি ভয় থাকে পড়বেই বা কখন।

জয়নাল রোদে পোহাতে অবস্থায় ” জয় বাংলা” বলিয়া চিৎকার দিল,সেই সময়ে হঠাৎ বকের দল সারি বাধিয়া আকাশ পরিভ্রমণ করিলো।

ওদের দেখিয়া ” বক” আর যাইলো না,পাশের বাশঁ গাছে আশ্রয় নিল। গোপাল মনে মনে ভাবিলো “বিজয়” আসছে :আর কতদিন এই ব্যাথা সহ্য করিবো”।

মোঃ ইমন খন্দকার হৃদয়

ভৈরবী নদীতে তেমন নৌকা চলেনা আর হঠাৎ নৌকা আসিলো ওরা ভাবিলো পাক- সেপাই আসিয়েছে তাই দৌড় দিয়া ঘরে যেতে লাগিলো।কিন্তু নৌকায় শিক্ষক ‘ ফয়েজ মিয়া’ ছিলেন আসিয়া উঠানে দাঁড়াইলেন,কহিতে লাগিলেন ” কিগো জয়নালের মা?, ওরা সব বাড়ি আছেনি আমি যুদ্ধাদি গল্প শোনামু”।

জয়নালের মা কহিলো” আছে স্যার ওদের সাথে আরো দুই জন হয়েছে।এতক্ষনে ভয় কাটিয়া জয়নাল,শারমিন আসিয়া সালাম দিল মাস্টার মহাশয় কে, পাশে দাঁড়িয়ে আছে গোপালের পুত্র,কন্যা বাসু ও পুটি।

ফয়েজ মিয়া,কহিলো ” কেমন আছো?,চারদিকে অবস্থা কিছু জানো?। জয়নাল বললো ” না স্যার!

তেমন ভালো নেই আজ ৯ মাস ধরিয়া দুঃখে আর ভয়ে কাটে সময়”।ফয়েজ মিয়া কহিলো ” আজ তোমাদের অনেক কিছু বলবো ও শিখাবো”।

এ বলিয়া ওদের নিয়া সেই পুরানো বেল তলায় গিয়া বসিলেন।

মাস্টার মহাশয় এসেছেন দেখিয়া চা- চালভাজা তৈরি করিতে লাগিলো, জয়নালের সত্তর বছরের দাদী আমিনা বেগম।

বেলতলা য় বসিয়া প্রথমে জিজ্ঞাস করিলেন ফয়েজ মিয়া ” তোমরা কি আমাগো ইতিহাস শুনবা?।

হুকুম

বাসু কহিলো ” হ্যা স্যার” আপনি যা বলিবেন তাহাই শ্রবণ করিবো।ফয়েজ মিয়া আরম্ভ করিলেন “আজ তোমরা যে ভাষায় কথা কও,

তার উপরে হুকুম আসে ১৯৪৮ সালে কিন্তু তা প্রতিবাদ হয়ে ওঠে, আমাদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা কহিবো না,

আরো পড়ুন:  এ আর রহমান এর জীবনী (A. R. Rahman life style)

তাই ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে নামে ছাত্র- জনতা প্রবল প্রতিবাদ হয় রাজধানী র সড়কে এমতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়: সালাম, রফিক, শফিক, বরকত, জব্বার সহ প্রমুখ বাঙালী ব্যাটারা।তারপরে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা ই থাকে”।

শারমিন জিজ্ঞাস করিলো” স্যার! আমরা যে ২১ শে ফেব্রুয়ারি পালন করি তাহার ই ইতিহাস এটা?।

ফয়েজ মিয়া কহিলো ” হ্যা মা এটাই ইতিহাস, জানোস নে মা,নিজ ভাষায় কথা কহিতে পারা যে কি শান্তির তা অমৃত ভক্ষণ করিলো পারা যায়না।

তোদের যে শহিদ মিনার টা পাকিস্তানি মিলিটারি রা সেদিন স্কুলের সামনে ভাঙলো আসলে ওদের ক্ষোভে করেছে,যে হুকুম কেন মোরা ৪৮ এ পালন করিনি”।

বাসু কহিলো ” জানেন স্যার,আমাগো কালী মায়ের প্রতিমাটাকে ওদের বুট দিয়া ভেঙ্গে চুড়মাড় করিয়া দিয়েছে,আজ যেমন ওরা দেশটাকে করছে,আমার বৃদ্ধা ঠাকুমা কে লাথি মারিয়া,মুখ বিবর্ণ করিয়া দিয়েছে”।

কত নির্মম না হলে এ কাজ করা যায়। এই কথা শুনিয়া সভামহল বেশ চুপ করিয়া থাকিলো।

ওদিকে পাশের গ্রাম ” হোসাঈনিপুর” প্রবল চিৎকার ভেসে আসছে।

ওরা সব মনে করিলো পাক- সেপাই রা এদিকেও আসবে কিন্তু ফয়েজ মিয়া ভয় পেতে বারন করলেন।

সর্ব সময়ে ফয়েজ মিয়া কহিতে লাগিলো ” ১৯৫৪ নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন ও মুসলিম লীগ কে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষে পাকিস্তানের নানা দল মিলিয়া বাংলার বাঘের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠন করিলো।

যেখানে ২১ দফা ইশতেহার প্রদান করিয়েছিলো।সেই নির্বাচনে আমরা জয়ী হয়েও ওদের হুকুম না মানার ফলে ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট সরকার কে নাকচ করে দেয় ওরা”।

মোঃ ইমন খন্দকার হৃদয়

এভাবে করিয়া ওরা আমাদের ওপর জুলুম করিতে লাগিলো।বাসু বললো ” স্যার! আমাদের ওপর ওদের এত কেন রাগ?।

ফয়েজ মিয়া কহিলো ” আমাদের থাকিতে হবে বিড়াল হইয়া,আমরা বাঘ হইয়া গর্জন দিলেই ওদের টনক লড়ে যায়,

আমাদের সকল সংস্কৃতি থাকতেও কেন ই বা ওদের অন্যায় কাজ আমাদের মানিতে হইবে”।

মৌলভী আজিজ সাহেব ক্ষেত দিয়া বড় একটা শোল ধরিয়া ও লাগানো লাল শাক হস্তে করিয়া আনিয়া বউয়ের কাছে দিলেন।

মাস্টার সাহেবের সাথে কুশল করিলেন।

এমতাবস্থায় মাস্টার সাহেব আবার কহিতে লাগিলেন” সামরিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের গনতন্ত্র,বিচার বিভাগ,

সরকার ব্যবস্থা,গণপরিষদ এর মুলতবি বাতিল করিয়া নিজ ক্ষমতাবলে ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তান ব্যাপি মার্শাল ল জারি করেন।

যাহার ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় আসিন ছিলেন।আমাদের সেই থেকেই হুকুম এর আধিক্যেতা আরো বাড়িয়া যায়”। বেল গাছটির পাতা নড়ছে,উত্তর দিক থেকে মৃদু বাতাস আসিতেছে,

জয়নালের দাদী চা- চাল ভাজা নিয়া আসিলেন,তেজপাতা র চায়ের ঘ্রাণ বড় ই মুখর হইতে লাগলো।

প্রথমে ফয়েজ মিয়া চা ও সাথে চালভাজা খেলেন অন্যারাও তাল মিলাইলো।কত ভয়ের ভিতর ও স্বাধীনতার গল্প শোনতে পারা বড় ই আনন্দ।

সকলের খাওয়া শেষ হইলে ফয়েজ মিয়া কহিতে লাগিলেন” আমাদের ওরা সামরিক শাষন হইতে জুলুম শুরু করেছিল।

এত বৈষম্য আর হিংসা প্রতিটা কাজের ভিতরে বিদ্রুপ, পূর্ব পাকিস্তান কে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগে মন্দা করিয়া রাখিতেছিল।এখন আমাদের বাঁচার দাবি পেশ করা প্রয়োজন।

সেই পরিপেক্ষিতে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলনে বাঙালী র অধিকার গুলা উপস্থাপন করেন।আমাদের নেতা শেখ মুজিবের রহমান সাহেব।

যাহার মুল ৬ দফা ছিল এটি আমাদের মুক্তির সনদ, ইহা দ্বারাই পূর্ব পাকিস্তানের জীবন – মরণের সন্ধি।

ছয় দফার যে দাবি গুলো ছিল তার নিম্নরূপ তোমাদিগ কে পাঠ্য করিয়া শুনাই।

১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে,

যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে;

২. ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে শুধু দুটি বিষয়, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক, এবং অপর সব বিষয় ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত রাজ্যসমূহের হাতে ন্যস্ত থাকবে;

হুকুম

৩. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সমগ্র পাকিস্তানের জন্য ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটিই মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থাকবে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পুঁজি যাতে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে তার ব্যবস্থা সম্বলিত সুনির্দিষ্ট বিধি সংবিধানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে;

আরো পড়ুন:  করোনা VS পতিতা

৪. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব থাকবে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা রাজ্যের হাতে থাকবে। তবে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে কিংবা উভয়ের স্বীকৃত অন্য কোনো হারে আদায় করা হবে;

৫. দুই অংশের মধ্যে দেশিয় পণ্য বিনিময়ে কোনো শুল্ক ধার্য করা হবে না এবং রাজ্যগুলো যাতে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে সংবিধানে তার বিধান রাখতে হবে।

৬. প্রতিরক্ষায় পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আধা-সামরিক রক্ষীবাহিনী গঠন, পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র কারখানা স্থাপন এবং কেন্দ্রীয় নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন করতে হবে।

আমাদের সঠিক দাবি গুলা প্রণয়ন করায় আইয়ুব খান এটি কে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন বাদ হিসাবে ঘোষনা করেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন ৩৫ আসামী র ভিতর এক নাম্বার আসামী শেখ মুজিবর রহমান কে করে আটক করে এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার শুরু করে”।

এই সব কথা শুনিয়া বাসু র মনে প্রশ্ন জাগিলো, সে স্যার! কে জিজ্ঞাস করিলো” আমাদের চেতনা কি এখান থেকেই প্রবল হইছিলো?”।

স্যার বলিলেন” হ্যা আর কত চুপ করে থাকা যায়,আমাদের স্বাধীন ভাবে ওরা বাঁচিতে দিতে মত প্রকাশ করেনা।

আমাদের ওরা গোলাম করিয়া হুকুম আরোপ করিতে চায়”। শারমিন বড় ই ছোট কিছুই বোঝে না, শুধুই মাথা নাড়ায় তারপরো কহিলো “স্যার এরপর কি হইলো?”।

ফয়েজ মিয়া বলিলেন ” পাকিস্তানে ১০ বছর ধরে আইয়ুব খানের স্বৈরচার শাষনে অতিষ্ঠ হয় গোটা পাকিস্তান।

►► আরো দেখো: সফটওয়্যার ছাড়া সেকেন্ডেই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করুন
►► আরো দেখো: প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা এবং ইনকাম করা!

মোঃ ইমন খন্দকার হৃদয়

কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ জনতা ঐক্য হয়ে রাজপথে নামেন।

পূর্ব পাকিস্তানের জনতার মুখের ভাষ্য রাজজবন্দী দের মুক্তি দাও, ৬ দফা মানতে হবে,আইয়ুব খানের পতন চাই সহ ইত্যাদি।

প্রবল বেগে আন্দোলন ও প্রতিবাদ এর ঝড় বয়ে যায় ১৯৬৮ সালে শুরু থেকে বছর ব্যাপি।

বাঙালী র মুক্তিসংগ্রাম শুরু হয়,এই আন্দোলন থেকে শতাধিক জনতা নিহত হয়: হাজার হাজার পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনতা আহত হন।

দেশের নানা রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইয়ুব খানের পতনের ডাক দেন, যার নেতৃত্ব এ ছিলেন মাওলানা ভাষানী, এটি ছিল জুলম ও মজলুম এর লড়াই।

যার ফল সরুপ গোল টেবিল ডাকলেও তার প্রত্যাখ্যাত করে সাধারণ জনতা।

প্রবল চাপের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিব সহ রাজবন্দী দের মুক্তি দেওয়া হয়।

১১ বছরের সামরিক শাষনের অবসান ঘটে ১৯৬৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

হুকুম

এটা বাঙালী র ঐতিহ্য র উনসত্তর এর গন অভ্যুত্থান। তাহা বলিয়া আবার শিক্ষা ফয়েজ মিয়া ৭০ এর নির্বাচন এর কথা আরম্ভ করিলেন “১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতিয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন।

এ নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশ নেয়। ৩০০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন মোট এক হাজার ৯৫৭ জন প্রার্থী।

মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এক হাজার ৫৭৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগ ১৭০ আসনে প্রার্থী দেয়।

এর মধ্যে ১৬২টি আসন পূর্ব পাকিস্তানে এবং বাকিগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে। আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

একই সঙ্গে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে।

নজিরবিহীন এ বিজয়ে আওয়ামী লীগ এককভাবে সরকার গঠন ও ছয় দফার পক্ষে গণরায় লাভ করে”।

কিন্তু ওরা আমাদের ওপর ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। আমাদের ওপর জুলুম নির্যাতন করে ই চলেছিল”।

আরো পড়ুন:  আমার বাংলাদেশ - শুভ্র দেব

মোঃ ইমন খন্দকার হৃদয়

অনেক ক্ষন বলার পর ফয়েজ মিয়া চুপ করিয়া থাকিলেন,এদিকে মধ্যাহ্ন গড়িয়েছে মৌলভী জোহরের আজান দিয়া,

নামাজে ডাকলেন শিক্ষক সেদিক পা বাড়ালেন, কচিকাঁচা র দল গোসলে গেল নদীর ধারে।

প্রকৃতি বড় ই চুপ কোন সাড়া নেই,বকের দল রুগ্ন সুরে ডাকছে।

গোপালের বউ উলু দিয়া ভগবান কে ডাকছে আর বলিতেছে” আর কত কাঁদবো আজ ১৬ তারিখ হইলো বছর শেষ হইয়া আসছে ,মোদের মুক্তি দেও”।

ফয়েজ মিয়া নামাজ থেকে আসিয়া দুপুরে খাদ্য গ্রহন করিয়া আবার কচিকাঁচা নিয়া বেলতলা য় বসিলেন।তিনি বললেন

” আমাদের ২৩ বছর ধরে জুলুম আর হুকুমের ভিতরে রেখেছে,নানা সময়ে নির্যাতন করিয়েছে, হিংসা – বৈষম্য বন্যের পশুর মতন আচরণ করিয়া চলিতেছে।

আর সহ্য হয়না সেই অভ্যুত্থান থেকে সংগ্রাম শুরু হইছে।

আজ এর প্রতিবাদ মুখর হইতে আছে, বাঙালী র নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালে ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ঘোষনা করিয়েছে।

তিনি ঐতিহাসিক ভাষন দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ রের্সকোস ময়দান মাঠে ১০ লক্ষ জনতার সামনে ঘোষনা করিলেন স্বাধীনতা র মুল সুর

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতা র সংগ্রাম” সেই সুর শুনিয়া বাঙালী ঝাপিয়ে পড়িলো যুদ্ধ করতে।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ নিরস্ত্র বাঙালী র ওপর গণহত্যা করিলো পাক- সেপাই র দল,২৬ শে মার্চ।

হুকুম

নব প্রভাতে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া ওদের বিরুদ্বে লড়াই শুরু হল।

১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠন করিয়া ১৭ ই এপ্রিল শপথ পাঠ করিয়া যুদ্ধ পরিচালনা করা শুরু হইলো।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধ চলিতেছে, আমাদের অস্ত্র কম থাকতে পারে কিন্তু মনের জোড় বড় ই বেশি,তাই তো নানা গেরিলা অপারেশন সফল করেছে।

আমাদের মুক্তিযোদ্ধা রা”।জয়নান বলিয়া উঠিলো ” স্যার, এর ভিতর কি আমার বাপ জান আছে?”।

স্যার কহিলো ” হ্যা, তোমার বাবা ও দেশপ্রেমে মুগ্ধ হইয়া ওদের বিরুদ্বে লড়ছে,ওদের কোন মায়া দয়া নাই, সব ওই শকুনের ভক্ষন এর মত গ্রহন হইয়াছে,

না হলে মানুষ গুলো কে মেরে হাত বাধা অবস্থায় নদী তে ফেলে দিতে পারতো না,ছোট ছোট বাচ্চাদের কান্না ওদের হৃদয় আঘাত হানেনা।

মায়ের সামনে মেয়েকে ইজ্জত হারা করে এটাই বড় ই ব্যাভিচার। এ দেশের মানুষের লাশ কাক,

শকুন,ইলিশ মাছ খাচ্ছে কিন্তু ওদের হৃদয় কাপছে না।এই ৯ মাসে কত লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে তা অজানা।

ওরা নারী দের কে ইজ্জত হারা করিয়া লক্ষ এর অধিক ছাড়িয়া নিয়েছে,

ওরা জানে ওদের পরাজয় হইবে তাই দেশের জ্ঞানী মানুষ গুলারে জবাই থেকে শুরু করে পুড়িয়ে মারতে আছে তাহার ভিতর আছে শিক্ষক,

চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রকোশৌলী,সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী সহ প্রমুখ বাঙালী রা আর কত?”।

মোঃ ইমন খন্দকার হৃদয়

এই কথা বলিয়া কাদিঁতে লাগিলেন ফয়েজ মিয়া,সাথে ওরা ৪ জন।

বিকাল হইয়াছে উষার ধ্বনি প্রংকলিত করিয়া আকাশ বড় ই লাল,চারদিকে দিগন্ত বিহীন নিশ্চুপ।

হঠাৎ করিয়া খালি গায়ে লুঙ্গি পড়া কাঁধে রাইফেল হাতে নিশান লইয়া দূর থেকে জয় বাংলা,

জয় বাংলা করিয়া আসিতেছে “মোল্লা বাড়ি” র দিক আর বলিতেছে দেশ আজ স্বাধীন আমরা বিজয় এনেছি।

এটা শুনিয়া ফয়েজ মিয়া সহ ওরা দাঁড়িয়ে চিৎকার করিয়া জয়বাংলা বলিয়া হাসিতে লাগিলো,গোপাল ও তার বধু,মৌলভী আজিজ,

জয়নালের মা ঘর থেকে আকাশের দিক চাহিয়া হাসিতে আছে আর কাদিঁতে আছে।

বৃদ্ধা আমিনা বেগম কহিলো ” ওরে মতিন আমরা কি মুক্ত আজ থেকে?

আমাদের কি জয় হইয়াছে? বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন” হাস্যমুখে বলিলো ” হয় বুয়া আজ আমরা স্বাধীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী,

আজ পরাজয় স্বিকার করিয়েছে”। বাশঁ গাছের বক গুলা মুক্তমনে আকাশে উড়িলো আর আওয়াজ করিতেছে,

জয়বাংলা ওরা ও বলিতেছে।চারদিকে ঠান্ডা বাতাস নদী থেকে বিজয়ের হাসি ভাসিয়া আসিতেছে।

পাশের গ্রামে রেডিও তে তরঙ্গ ভাসিয়া আসে,আজ বাংলাদেশ স্বাধীন।

বৃদ্ধা আমিনা বেগম কাদিঁতে কাদিঁতে মাটিতে লুটাইয়া পড়িলো হঠাৎ বলিলো ” মোরা কি সত্য ই স্বাধীন?।

Check Also

সৈয়দ আলী আহসান

সৈয়দ আলী আহসান এর জীবনি

সৈয়দ আলী আহসান (২৬ মার্চ ১৯২২-২৫ জুলাই ২০০২) বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.